সন্দীপ সুর
গণবিক্ষোভে উত্তাল নেপাল(Nepal)। হিমালয়ের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টসহ আট-আটটি উচ্চতম পর্বত রয়েছে এই দেশটিতে।নেপাল মানেই গেটওয়ে অফ এভারেস্ট। নেপালের অশান্তির জন্য পর্বতারোহণের আশঙ্কার কালো মেঘ দেখছেন এভারেস্টজয়ী পিয়ালি বসাক (Piyali Basak)।
বছর খানেক আগেই এভারেস্ট জয় করে ফিরেছেন চন্দননগরের বঙ্গ কন্যা। শুধু এভারেস্ট নয় অন্নপূর্ণা, মাকালু, ধোবলাগিরি একাধিক শৃঙ্গ অভিযানে যান পর্বতারোহীরা। কিন্তু নেপালে যেভাবে অশান্তি শুরু হয়েছে তাতে পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে সমস্যার হবে বলেই মনে করেন পিয়ালি।

দুপুর দেখেই পিয়ালির চোখ টিভিতে। জ্বলছে রাজধানী কাঠমান্ডু যেখান থেকে তাঁর স্বপ্নের এভারেস্ট যাত্রা শুরু হয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরেই পরিচিত শেরপাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। অবশেষে হোয়াটসঅ্যাপ কলে আজ কথা বলতে পেরছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ব বাংলা সংবাদকে বলেন, ‘’নেপাল থেকে শুধু এভারেস্ট অভিযান শুরু হয় না একইসঙ্গে একাধিক শৃঙ্গে ট্রেকিং করা হয়। অন্নপূর্ণা, মাকালু, ধোবলাগিরি একাধিক শৃঙ্গ রয়েছে যেখানে ট্রেকিংয়ে যান পর্বতারোহীরা। কিন্তু নেপালে অশান্তি অস্থিরতা বজায় থাকলে এই অভিযানগুলির অনুমতি পাওয়া যাবে না। অশান্তির জন্য নেপালে সরকারি অফিস বন্ধ থাকলে সেক্ষত্রে সমস্যা হবে।“

এভারেস্ট অভিযানের অনুমতি দেয় নেপাল সরকার। প্রতিবছর বসন্ত ও শরৎকাল—এই দুই মরসুমে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে অভিযাত্রী আসেন নেপালে। কিন্তু চলতি রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেই শিল্পই বড়সড় ধাক্কার মুখে। পিয়ালির কথায়, “ইতিমধ্যেই সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসের অভিযানের অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার। কিন্তু এভাবে অশান্তি বজায় থাকলে বা স্থায়ী সরকার না থাকলে পরবর্তী সময়ে অনুমতি পেতে সমস্যা হবে।“

তবে পিয়ালি আশা করছেন দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। তাঁর কথায়, “পর্যটনই নেপালের মূল শিল্প। ফলে দীর্ঘদিন অস্থিরতা থাকলে সেটা ধাক্কা খাবে। শেরপারা আমাকে বলেছেন দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে।“

পরিসংখ্যান বলছে, নেপালের জিডিপির অন্তত ৪ শতাংশ জুড়ে রয়েছে পর্বতারোহণ ও পর্যটন খাত। কেবল এভারেস্ট অভিযানের জন্যই বিদেশি অভিযাত্রীদের মাথাপিছু ১১,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পারমিট ফি দিতে হয় নেপাল সরকারকে। এছাড়াও গাইড ফি, সরঞ্জাম, লজিং, পরিবহন মিলিয়ে প্রতিটি অভিযানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে যদি এই মরশুমে অভিযান বাতিল হয়, তবে নেপালের অর্থনীতিতেও বড়সড় ধাক্কা লাগবে।

আরও পড়ুন :বিক্ষোভের আগুনে পুড়ে মৃত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, রক্তাক্ত শের বাহাদুর দেউবা
নেপালের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে অভিযাত্রী মহল।
