উত্তাল পরিস্থিতি নেপালে। সোমবারের পর মঙ্গলবারও রাজধানী কাঠমান্ডুর রাজপথে নেমে এসেছিল স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা। আন্দোলনের সামনের সারিতে তরুণ প্রজন্মকে দেখে প্রশ্ন উঠছে—এই বিক্ষোভের হোতা কে? নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, আন্দোলনের প্রধান মুখ ৩৬ বছরের তরুণ সমাজকর্মী ও ইউটিউবার সুদান গুরুং।
কে এই সুদান গুরুং? ২০১৫ সালে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে সন্তান হারানোর পরই জীবনের মোড় ঘুরেছিল সুদানের। আগে জনপ্রিয় ‘ডিজে’ হিসাবে পরিচিত হলেও, সেই সময় থেকে শুরু করেন সমাজসেবার কাজ। গড়ে তোলেন ‘হামি নেপাল’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মূলত ছাত্র-যুবদের নিয়েই গড়া এই সংগঠন প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রেও তিনি পরিচিত মুখ। ফলে ধীরে ধীরে নেপালের তরুণ সমাজের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

অতীতে দুর্নীতির প্রতিবাদে ঘোপা ক্যাম্প আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সুদান। তবে এ বার সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সরকারের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষোভ বাড়ছিলই। সেই ক্ষোভই সরকার-বিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

প্রতিবাদীরা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে ‘জেন জ়ি’ হিসেবে। তাঁদের দাবি, কেবল সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ নয়, দেশের আর্থিক বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধেও এই আন্দোলন। যদিও সুদান অহিংস আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, তবুও পরিস্থিতি ক্রমশ সহিংস হচ্ছে। সমাজমাধ্যমে এখনও উজ্জ্বল তাঁর ডিজে পরিচয়। আপাতত নেপালের ছাত্র-যুব সমাজের প্রতিবাদের সুরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই ‘ডিজে’ সুদান। আর সেই সুরেই বেসুরো হয়ে উঠছে নেপাল সরকার।

আরও পড়ুন – নেপালের অশান্তির জেরে সমস্যা পড়বেন পর্বতারোহীরা, আশঙ্কায় পিয়ালি বসাক

_

_

_
_
_
_
