Sunday, May 10, 2026

SIR-ই দায়ী: উত্তরপ্রদেশে দুদিনে ২ BLO আত্মঘাতী, ১জনের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু!

Date:

Share post:

চলতি এসআইআর প্রক্রিয়াকে দায়ী করে যোগীরাজ্যে এবার বিএলও-দের মৃত্যু মিছিল। কখনও ইনিউমারেশন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে সংঘাতে বিষ খেতে হচ্ছে। কখনও বিয়ের জন্য ছুটি নেওয়ায় অপমানিত হয়ে আত্মঘাতী হতে বাধ্য হচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের বিএলও-রা (BLO)। সেই তালিকায় এবার উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) ফতেপুর ও গোণ্ডা জেলার দুই বিএলও। অন্যদিকে বরেলিতে কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক বিএলও-র।

মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের ফতেপুর (Fatehpur) জেলায় নিজের বাড়ি থেকেই ২৮ বছরের উত্তরপ্রদেশের গ্রাম স্তরের রাজস্ব আধিকারিক সুধীর কুমারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। বুধবার সুধীরের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের জন্য তিনি ছুটি পেলেও বিয়ের আগের আচার অনুষ্ঠানের জন্য তিনি কোনও ছুটি পাননি। গত সোমবার তাঁর হলদি এবং মেহেন্দির অনুষ্ঠান থাকায় তিনি ওই দিন কাজে যেতে পারেননি। তাই পরের দিন দুই সরকারি কর্মী সুধীরের বাড়িতে গিয়ে সকলের সামনে তাঁকে রীতিমত অপমান করেন এবং তাঁকে বরখাস্তের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, ওইদিন সরকারি কর্মীরা বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পরেই অপমানে সুধীর আত্মহত্যা করেন।

অন্যদিকে গোণ্ডা (Gonda) জেলার একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, নবাবগঞ্জের একটি স্কুলে এক পার্শ্বশিক্ষক মৃত্যুর আগে নিজের বয়ানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এসআইআর নিয়ে চাপকেই তাঁর আত্মহত্যার জন্য দায়ী করেছেন। স্থানীয় এসডিএম, বিডিও ও লেখপালে বিরুদ্ধে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বিএলও (BLO) হিসাবে কাজ করার সময় স্থানীয় ওবিসি (OBC) শ্রেণির মানুষের নাম তালিকা (voter list) থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে চাপ দেন ওই আধিকারিকরা, দাবি বিপিন যাদব নামে মৃত বিএলও-র পরিবারের। বিষ খাওয়ার পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তিনি বয়ান দেন বলে ভিডিও-তে দাবি।

আরও পড়ুন : রহস্যজনক! কে বানালো ভোটার তালিকা তৈরির অ্যাপ, কমিশনকে প্রশ্ন তৃণমূলের

এর পাশাপাশি বুধবার বরেলিতে (Bareilly) মৃত্যু হয়েছে এক প্রাথমিক শিক্ষকের। সেক্ষেত্রে কাজের চাপে মৃত্যু হয়েছে প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক যোগেশ গাংওয়ারের, দাবি তাঁর ভাইয়ের। সম্প্রতি যোগেশের স্ত্রীর বিয়োগ হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সংসার ও সন্তানদের যোগেশ একাই প্রতিপালন করছিলেন। সেই সঙ্গে তাঁর স্কুলের চাকরিও ছিল। তার মধ্যে এসআইআর-এর কাজ করতে তাঁকে রাত জাগতে হত। কারণ তাঁর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা তাঁর ওপর অত্যন্ত চাপ প্রয়োগ করতেন, দাবি পরিবারের। সেই সঙ্গে সাসপেনশন ও পুলিশি গ্রেফতারির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল যোগেশকে। ফলে তিনি অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় থাকতেন, এমনটাই দাবি পরিবারের সদস্যদের। এই পরিস্থিতিতে বুধবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।

Related articles

শান্তিকুঞ্জের সামনে ব্রোঞ্জের বাঘ! প্রিয় নেতার জন্য অভিনভ উপহার নিয়ে হাজির দমদমের উত্তম 

রাজনীতিতে কখনও তিনি ‘মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র’, কখনও আবার স্রেফ ‘দাদা’। তবে তাঁর অনুরাগীদের চোখে তিনি ‘বাংলার বাঘ’। সেই আবেগকে...

বুধবার থেকে শুরু বিধায়কদের শপথগ্রহণ, প্রোটেম স্পিকারের দৌড়ে তাপস রায় 

নতুন সরকারের পথ চলা শুরুর পর এবার বিধানসভায় তৎপরতা শুরু হল পরিষদীয় প্রক্রিয়ার। আগামী বুধবার থেকে শুরু হতে...

শপথ মিটতেই রণক্ষেত্র বনগাঁ! ভাঙল নীল বিদ্রোহের স্মৃতিফলক, কাঠগড়ায় বিজেপি 

বাংলার গৌরবের ইতিহাস এবং নীল বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত স্মারক এবার রাজনীতির রোষানলে। বনগাঁ শহরে নীল বিদ্রোহের ইতিহাস সম্বলিত একাধিক...

মুখ্যমন্ত্রীর দুই যুগ্ম সহায়ক: দুই আইপিএসকে নতুন দায়িত্ব

রাজ্যের প্রথম বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পরে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর নিয়ে সচেতন পদক্ষেপ বিজেপির। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর...