দেশের ছয় রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় বাড়ালেও বাড়েনি বাংলায়। বাংলার কমিশন দফতর সেভাবে সুপারিশ না করাতেই পূর্বনির্দিষ্ট ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে বাংলার খসড়া ভোটার তালিকা (draft voter list)। আর তারপরেই শুরু হয়ে যাবে সমস্যাজনক ভোটারের শুনানির প্রক্রিয়া। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের একটি বিরাট সংখ্যায় ভোটার শুনানিতে (hearing) ডাক পাবেন বিভিন্ন সমস্যার কারণে। ফলে সেই শুনানির জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি কমিশনের (Election Commission)। ইতিমধ্যেই শুনানিতে বিজেপির প্রভাবের অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কমিশন সেই প্রক্রিয়াকে কতটা নিরপেক্ষ রাখতে পারে, সেটাই এখন চ্যালেঞ্জ।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন শুনানিতে ডাকার সংখ্যাকে বাড়িয়ে ৫০ থেকে ১০০ করা হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) (ERO) এবং ১০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইআরও-কে (AERO) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে উপস্থিত রাখবেন। ফলে শুনানিতে ডাক পাওয়ার সংখ্যা বেড়ে ব্যাপক আকার নিতে চলেছে, এখান থেকেই স্পষ্ট।
সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটার অনম্যাপড রয়েছেন, অর্থাৎ তাদের নাম ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযুক্ত হয়নি। অন্যদিকে, মিসম্যাচ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যেমন বয়স, পিতা বা মাতার নাম, লিঙ্গ, ভোটার আইডির সঙ্গে না মেলানো— এমন নানান কারণে যে ভোটারদের (voter) তথ্য যাচাই (verify) প্রয়োজন, সেই সংখ্যা মিলিয়ে মোট ভোটার যাচাইয়ের সংখ্যা ২ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন : ফর্ম ডিজিটাইজেশনের শেষ পর্যায়েই ভোটের প্রস্তুতিতে কমিশন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা

এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাই এবং শুনানি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর (CEO office) থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত জেলা শাসকের কার্যালয়, মহকুমা অফিস, ব্লক অফিস এবং অন্যান্য সরকারি দফতরে এই শুনানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে সমস্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যায়।

–

–

–
–
–
