Tuesday, May 26, 2026

MGNREGA থেকে PBGRY: নাম বদল মোদি সরকারের, ‘মহাত্মা’ শব্দ বাদের তীব্র বিরোধিতা কুণালের

Date:

Share post:

১০০ দিনের কাজ করিয়ে টাকা দেয়নি। বঞ্চিত বাংলা। সেই টাকা দেওয়ার নাম নেই উল্টে বাংলাকে আপমান করতে MGNREGA প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের। এই প্রকল্পের নাম ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন ২০০৫’ থেকে ‘পূজ্য বাবু গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি বিল ২০২৫’ (PBGRY) করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় মোদি সরকার। এর তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল (TMC)। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কেন্দ্র রবি ঠাকুর ও বাংলার ঐতিহাসিক স্পর্শকে মুছে ফেলছে।“ ১০০ দিনের নয়, এবার থেকে বছরে ১২৫ দিনের রোজগারের গ্যারেন্টি দিচ্ছে কেন্দ্র। তবে, যেখানে একশো দিনের কাজের টাকাই দিচ্ছে না মোদি সরকার- সেখানে ১২৫দিনের কাজ করিয়েও যে টাকা দেবে- তার গ্যারান্টি কী!

শুক্রবার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে (Cabinet Meeting) সিদ্ধান্ত হয়, সবচেয়ে বড় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের নতুন নাম ‘পুজ্য বাপু গ্রামীণ রোজগার গ্যারেন্টি’। একই সঙ্গে কর্মদিবস ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ করা হয়েছে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলেই দাবি মোদি সরকারের। বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক জানায়, প্রকল্পের গঠন, পরিকাঠামো ও অর্থ বরাদ্দের পদ্ধতিতে কিছু সংস্কার আনা হবে। মূল লক্ষ্য- গ্রামে স্থায়ী সম্পদ তৈরি করা, স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।

২০০৫ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে চালু হয়েছিল MGNREGA। এই প্রকল্পে জল সংরক্ষণ, জমি সংস্কার, গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামের মানুষকে বছরে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া, গ্রামীণ বেকারত্ব কমানো ও গ্রামীণ মানুষের নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। দেশের গ্রামীণ কর্মসংস্থানের চিত্র একেবারে বদলে দিয়েছিল প্রকল্পটি।

কেন্দ্রের দাবি, নতুন নামে, নতুন কাঠামোয় প্রকল্প আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কাজ করবে। দেশজুড়ে গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন দিশা দেবে এই সিদ্ধান্ত। বিরোধীরা প্রশ্ন, নাম বদলে কী প্রকল্পের সমস্যা দূর হবে? শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরেও বাংলার ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র।

এই নাম পরিবর্তন নিয়ে কুণাল ঘোষ তীব্র কটাক্ষ করে তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক গান্ধীজিকে দেওয়া সম্মানসূচক ‘মহাত্মা’ শব্দটি বাদ দেওয়ার পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করুন। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না। এবং এখন নামকরণের মাধ্যমে, কেন্দ্র রবি ঠাকুর ও বাংলার ঐতিহাসিক স্পর্শকে মুছে ফেলছে।“

Related articles

বিজেপিতে যতদিন আমি আছি, এদের কোনও এন্ট্রি নেই! কাদের নিয়ে বিস্ফোরক প্রিয়াঙ্কা

"বৈঠক করতে দিন তাতে কী হবে! বিজেপিতে যতদিন আমি আছি, এদের কোনও এন্ট্রি নেই।" এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা...

কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে জোর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর 

কলকাতায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্র...

বেকারত্ব-পরিবেশ-সংস্কৃতি রক্ষায় এবার রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক DYFI-এর

রাজ্যে কর্মসংস্থানহীনতা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে বাঁচানোর দাবিতে এবার একযোগে আন্দোলনের পথে নামছে ডিওয়াইএফআই। সম্প্রতি...

”জলদি জলদি ভাগো…”! অনুপ্রবেশকারীদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

আগেই অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’। মঙ্গলবার, নদিয়ার (Nadia) কল্যাণীর এপিজে আবদুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে বৈঠকে পরে আরও কড়া বার্তা...