Tuesday, June 23, 2026

প্রধানমন্ত্রীর সভায় এসে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত ৪: সামান্য উল্লেখ মোদির ভাষণে!

Date:

Share post:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায় লোক ভরাতে আশেপাশে সব জেলা থেকে লোক জোগাড় করতে হয়েছে বিজেপিকে। কারণ মতুয়া গড় হিসাবে পরিচিত নদিয়ার (Nadia) রানাঘাটে স্থানীয় মানুষ যে বিজেপির ডাকে আর সাড়া দেবেন না, তা আগে থেকেই বুঝেছিল বঙ্গ বিজেপি। সেই ভিন রাজ্য থেকে ভোর রাতে নিয়ে আসা কর্মী-সমর্থকদের প্রতি কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন বিজেপি, তার প্রমাণ মিলল শনিবার সকালে। সভায় যোগ দিতে এসে ট্রেনের ধাক্কায় (hit and run) মৃত সমর্থকদের জন্য একটি শব্দ খরচ করলেন না বঙ্গ বিজেপির নেতারা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi), যিনি কথায় কথায় টুইটের ভরসা করেন, তাঁর মুখেও সামান্য উল্লেখ এই মৃতদের নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের স্মরণে একটিও পোস্ট হল না। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে ছেলেখেলায় কটাক্ষ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের।

তাহেরপুরে সভা প্রাঙ্গন ভরাতে মুর্শিদাবাদ থেকে বহু মানুষকে আনা হয়েছিল। বড়ঞাঁ থেকে আসা বেশ কিছু মানুষ ভোরে পাশের রেললাইনের ধারে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছিলেন। সেই সময় কুয়াশার কারণে রেললাইনের দৃশ্যমানতা কম থাকায় ওই লাইনে আসা লোকাল ট্রেন (local train) দেখতে পাননি তাঁরা। তাহেরপুর ও বাদকুল্লা স্টেশনের মাঝে ডাউন কৃষ্ণনগর-শিয়ালদহ লোকালের ধাক্কা ঘটনায় ঘটনাস্থলেই চার জনের মৃত্যু হয়। একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এত বড় মৃত্যু মিছিলের পরেও মোদির সভা (PM rally) বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা, বিজেপি নেতারা কেউ সেই নিহত কর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, নরেন্দ্র মোদির সভায় যোগ দিতে অন্যান্য জেলা থেকে পশুর মতো নিয়ে আসা হয়েছে মানুষকে। তাঁদের নিরাপত্তা, সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ, মানুষের জীবন নিয়ে কোনও চিন্তা নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হল। এই মানুষগুলি একজন মানুষের ইগো (ego) রক্ষা করতে ও একটি দলের ভ্যানিটি (vanity) রক্ষা করতে প্রাণ দিলেন।

আরও পড়ুন : আগ্রহ নেই মোদির বক্তব্যে, তাহেরপুরে ভোটাধিকার-উত্তর খুঁজতে মরিয়া বিজেপি

আর এখানেই প্রমাণিত হয়েছে বিজেপির সঠিক উদ্দেশ্য ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। তা নিয়ে কটাক্ষ করে তৃণমূলের দাবি, এটাই বাস্তবে বিজেপির রাজনীতি। যদি নম্বর বাড়াতে, দৃশ্যমানতা বাড়াতে এবং খবরের শিরোনামে থাকতে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে হয়, বিজেপির নেতারা তাতেও পিছপা হবেন না। আর এটা প্রথমবার নয়। সময় সাক্ষী, বিজেপির কত দ্রুতি মানুষের জীবনহানিকে ভুলে গিয়েছে। যেখানেই তারা যায়, সেখানেই মৃত্যু আর ধ্বংস বহন করে নিয়ে যায়।

Related articles

২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে দোকান-অফিস, রাজস্ব ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের

রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি ও বাণিজ্যের পরিবেশ বদলাতে বড় উদ্যোগ নিল নতুন সরকার। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টা দোকান,...

শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ! ফিরহাদ-অরূপদের শোকজ করল তৃণমূল কংগ্রেস 

দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও অরূপ রায়ের মতো প্রথম সারির...

অন্নপূর্ণা যোজনায় কাটছাঁট বাজেটে, অর্ধেকেরও বেশি উপভোক্তা বাদ পড়ার আশঙ্কা 

রাজ্য সরকারের পেশ করা নতুন বাজেটে অন্নপূর্ণা যোজনার বরাদ্দ ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের ঢাকঢোল...

পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে ভাঁওতা? গঙ্গাসাগর সেতুতে ‘টোকেন’ বরাদ্দ, বিমানবন্দরেও যৎসামান্য! 

বিরাট ঘোষণা, বড় বড় প্রতিশ্রুতি, কিন্তু বরাদ্দের খাতায় চোখ রাখলেই ধরা পড়ছে অন্য ছবি। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে...