Saturday, May 23, 2026

সবুজ সাথীর জোরদার প্রস্তুতি! ১০ লক্ষ সাইকেল কিনছে রাজ্য

Date:

Share post:

রাজ্যের নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের আওতায় ১০ লক্ষ সাইকেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুল এবং মাদ্রাসায় পাঠরত নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের এই সাইকেল দেওয়া হবে। ছেলে ও মেয়ে—উভয় পড়ুয়াই এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, মোট ১০ লক্ষ সাইকেলের প্রয়োজনকে দু’টি পৃথক লটে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি লটে থাকছে ৫ লক্ষ করে সাইকেল। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী ভারতীয় প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকেই এই সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হবে। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা এবং এর আগে সরকারি সংস্থাকে সাইকেল সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরবরাহ করা সাইকেলগুলিকে গুণমান সংক্রান্ত সমস্ত নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস-এর শংসাপত্র থাকা আবশ্যিক করা হয়েছে। এককালীন বিপুল পরিমাণ সরবরাহ শুরুর আগে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির দেওয়া নমুনা সাইকেল প্রযুক্তিগত কমিটি পরীক্ষা করে দেখবে। নির্ধারিত মানে উত্তীর্ণ হলেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হবে।

টেন্ডারে আরও বলা হয়েছে, শুধু সাইকেল সরবরাহ করলেই চলবে না, বিক্রয়োত্তর পরিষেবাও নিশ্চিত করতে হবে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে। যে সব জেলা ও পুরসভা এলাকায় সাইকেল বিতরণ করা হবে, সেখানে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পরিষেবা কেন্দ্র বা সহায়তা ব্যবস্থাও রাখতে হবে। প্রশাসনের মতে, সরবরাহের পর কোনও পড়ুয়াকে যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেই কারণেই এই শর্ত রাখা হয়েছে।

ভৌগোলিক ভাবে রাজ্যের ৩৩৪টি ব্লক এবং ১২৫টি পুরসভা এলাকায় এই সাইকেল সরবরাহ করা হবে। তবে কলকাতা পুরসভা এলাকা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘোষিত এলাকাকেও এই সরবরাহ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, কাজের নির্দেশ জারি হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই সাইকেল পৌঁছে দেওয়ার কথা। যদিও প্রয়োজন হলে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ এই সময়সীমা বাড়াতে পারে। ব্লক ও পুরসভা স্তরে নির্ধারিত স্থানে সাইকেল পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও টেন্ডারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, উচ্চশিক্ষার প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ বাড়ানো এবং স্কুলছুটের সংখ্যা কমানো। প্রশাসনিক মহলের মতে, ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্প সেই লক্ষ্য পূরণে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পের নামকরণ ও লোগোর ভাবনাও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এরই উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল। দার্জিলিং থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরের পথে যাত্রাকালীন তাঁর মাথায় আসে ‘সবুজ সাথী’ নামটি, এবং প্রকল্পের লোগোর নকশাও তিনিই করেন।

আরও পড়ুন – হাই কোর্টের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে মেয়েদের স্কুলে বিশেষ স্বাস্থ্য শিবির

_

 

_

 

_

Related articles

আরশোলাকে ভয়! রাতারাতি ৫১ হাজার নিয়োগ পত্রের ঘোষণা মোদির

প্রতি বছর যে ২ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দিয়েছিল, তা কোনও বছরই বিজেপি পালন...

“কার্যত ব্ল্যাকমেলিং”! দলীয় কাউন্সিলরের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ‘দুষ্ট চক্র-যোগের’ অভিযোগ ২ তৃণমূল বিধায়কের

দক্ষিণ দমদম পুরসভার দলীয় কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পরিবারের পাশে দাঁড়াল তৃণমূল। শনিবার সকালে দক্ষিণ দমদম পুরসভার...

IPL:কোচ পরিবর্তন করতে চাইছে সিএসকে, বাধা সেই ধোনিই!

২০২৩ সালের পর থেকে আইপিএলে(IPL) সিএসকে ( Chennai Super Kings )দলের সাফল্য নেই। স্টিফেন স্লেফিংয়ের বদলে এবার নতুন...

অনলাইনে বিনামূল্যে আধার আপডেটের সময়সীমা বাড়াল UIDAI

বাড়ল বিনামূল্যে আধার কার্ড আপডেট এর সময়সীমা। সরকারি প্রকল্পের টাকা পাওয়া হোক বা নতুন যোজনার জন্য আবেদন করা,...