পাটশিল্পের দায়িত্ব আংশিকভাবে কেন্দ্রের। তারপরেও বঙ্গ সফরে এসে পাটশিল্পের খারাপ অবস্থা নিয়ে কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার কেন্দ্রকেই খারাপ অবস্থা থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় তার জন্য পাল্টা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংকে চিঠি পাঠিয়ে ৩ দফা দাবি জানালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

চিঠিতে ঋতব্রতর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের পাটকল এলাকাগুলিতে দুর্দিন ঘনিয়ে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, এই মুহূর্তে পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঠিকমতো পাচ্ছেন না চাষিরা। জুটমিলগুলিতে উৎপাদন, শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। বহুদিন ধরেই শ্রমিক-মালিক অসন্তোষে এমন পরিস্থিতি হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় নীতির কারণে পাটের বাণিজ্যিকীকরণেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। এমনই বিভিন্ন কারণে পাটশিল্প খারাপ অবস্থা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে ঋতব্রত বারবার এসব কারণের কথা তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে সমস্যা সমাধানের কথাও বলেছেন।
আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কাঁচাপাট সংক্রান্ত স্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা ঘোষণা করুক কেন্দ্রীয় সরকার। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বণ্টন, নির্দিষ্ট দাম ঠিক করা, কৃষক ও কারখানাগুলিকে সময়মতো তাঁদের প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়া হোক। বস্ত্রমন্ত্রীর কাছে সাংসদের দাবি, পাটশিল্পে স্থিতাবস্থা আনতে, শ্রমিকদের আশ্বস্ত করতে এবং সামগ্রিকভাবে শিল্পকে পুনরুজ্জীবীত করতে যা পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা দ্রুত গ্রহন করা হোক।

কেন্দ্রের বরাত কমে যাওয়ার ফলেই উৎপাদনের গতি কমিয়ে দিচ্ছে পাটকলগুলি। ফলে, গঙ্গার দু’পারে হাওড়া, হুগলি, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের পাটকলগুলিতে কোথাও কাজ বন্ধের নোটিস আবার কোথাও কর্মদিবস কমিয়ে সপ্তাহে ছয় বা পাঁচ দিন করা হচ্ছে। হাওড়ার বালি জুটমিল-সহ হুগলির একাধিক কারখানায় কর্মদিবস কমানো হয়েছে। চাঁপদানির নর্থব্রুক জুটমিল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম গুঁইনের হস্তক্ষেপে আগামী সোমবার থেকে ফের তা খুলতে চলেছে। তবে সপ্তাহে কত দিন কাজ হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। বৃহস্পতিবার যখন গিরিরাজের মন্ত্রকে ঋতব্রতের চিঠি পৌঁছেছে, তখনই ভদ্রেশ্বরের অ্যাঙ্গাস জুটমিলে বৈঠক চলছে কর্মদিবস সঙ্কোচনের বিষয়ে।

আরও পড়ুন- নতুন শিক্ষাবর্ষে ছুটি কমাল বাংলাদেশ! বাতিল একুশে ফেব্রুয়ারিসহ বহু ছুটি

_

_

_
_
_
_
