একুশে ফেব্রুয়ারি—ভাষা শহিদদের স্মরণে এই দিনটি প্রতিটি বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে। সেই ভাষা দিবসের ছুটিই এবার বাতিল করল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের যে ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নতুন ছুটির তালিকা অনুযায়ী আগামী শিক্ষাবর্ষে মোট ছুটির সংখ্যা রাখা হয়েছে ৬৪ দিন, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দিন কম। শুধু ভাষা দিবস নয়, ছুটির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে মে দিবস, সরস্বতী পুজো, জন্মাষ্টমীও। পাশাপাশি বুদ্ধ পূর্ণিমা, মহালয়া এবং মধু পূর্ণিমাতেও আর ছুটি থাকছে না। শবে মিরাজ ও আশুরার দিনেও মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর ও বাংলা নববর্ষের মতো ঐতিহাসিক ও জাতীয় গুরুত্বের দিনগুলি স্কুলে যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে মতভেদ স্পষ্ট। একাংশের মতে, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতেই ছুটির সংখ্যা কমানো হয়েছে, যা শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে বহু শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সরস্বতী পুজো, জন্মাষ্টমী ও মহালয়ার মতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের দিনগুলিতে ছুটি বাতিল হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পরিকল্পিতভাবে কিছু নির্দিষ্ট ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই ছুটি বাতিলের ধারা আরও বিস্তৃত হতে পারে। ফলে শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রশ্নেও নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে।

আরও পড়ুন- ক্যানিংয়ে হোমগার্ডের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গ্রেফতার অভিযুক্ত SI

_

_

_
_
_
_
