Sunday, January 4, 2026

অভূতপূর্ব: জনসভায় দাঁড়িয়ে জনতার সমস্যা শুনে বাস্তবসম্মত সমাধান বাতলে দিলেন অভিষেক

Date:

Share post:

এই ঘটনা আগে বাংলা কেন দেশের রাজনীতিতে কখনও দেখা গিয়েছে কি না মনে করতে পারছেন না কেউ জনসভায় দাঁড়িয়ে জনতার প্রশ্ন শুনে সমাধান বাতলে দিলেন নেতা। শনিবার, এই অভিনব ঘটনার সাক্ষী থাকল আলিপুরদুয়ার (Alipurduwer)। সেখানকার শহর সংলগ্ন মাঝের ডাবরি চা-বাগানের মাঠে জনসভা করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। আর সেখানেই চা-শ্রমিকদের সমস্যা শোনার ব্যবস্থা করছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সমস্যা শুনে শুধু আশ্বাসবাণী নয়, বাস্তবসম্মত সমাধানের রাস্তা বাতলে দেন অভিষেক।

এদিন আলিপুরদুয়ারের (Alipurduwer) চা-বাগানে শ্রমিকদের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য শ্রমিকদের ফর্ম দেওয়া হয়। সেই ফর্মের মাধ্যমে তাঁদের সমস্যার বিস্তারিত তুলে ধরেন শ্রমিকরা। তার থেকে এক একটি ফর্ম তুলে সমস্যা শুনে মঞ্চ থেকেই সমাধানের রাস্তা বলে দেন অভিষেক। তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই উদ্যোগে আপ্লুত আলিপুরদুয়ারের চা-শ্রমিকরা। 

প্রথম প্রশ্নই আসে এসআইআর নিয়ে। কালচিনির রীতা ওঁরাও জানান, তাঁর স্বামী দুবাইতে কাজ করেন। এসআইআর শুনানিতে ডাকা হলেও ছুটিও পাচ্ছেন না। ফেরার টাকাও নেই। কী করব?
অভিষেকের জবাব, “আপনাকে বুঝতে হবে, এভাবে কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না। তালিকায় নাম থাকলে কমিশন তা জোর করে কেটে দিতে পারেন না। আপনার কাছে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা আছে। তাই অনলাইনে ফর্ম ৬এ পূরণ করুন। দরকার পড়লে নথিগুলিতে কনস্যুলেটের স্ট্যাম্প নিয়ে জেরক্স কপি বিএলও-কে জমা দিন। আপনাকে যদি কোনও বিএলও এই কথা বলে থাকেন তবে ইআরও-র কাছে অভিযোগ জানান। আর যদি কোনও সমস্যা হয় তৃণমূলের শিবিরে যান। সেখানে গিয়ে একটি জেরক্স কপি জমা দিন। চিন্তা করবেন না।”

কালচিনির আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, চা বাগানের জমিতে বাড়ির ক্ষেত্রে কোম্পানি এনওসি দিচ্ছে না। বাড়িও মেরামত করছে না। জমির পাট্টাও দিচ্ছে না।
অভিষেকের জবাব, “কোথাও কোথাও জমিজট রয়েছে। সমাধানে কিছুটা সময় লাগছে। আপনি আর একটু অপেক্ষা করুন। হয়তো দেরি হচ্ছে, সমস্যা মিটে যাবে। তৃণমূল নেতৃত্বকে অনুরোধ করব প্রশাসনের সহযোগিতায় সমস্যা সমাধান করুন।” 

জয়প্রকাশ কাঁকরা বলে এক শ্রমিক অভিযোগ করেন, চা বাগানের ভালো চিকিৎসক নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রেরও অভাব।
অভিষেকের জবাব, “২-৪ বছর ধরে এই অভিযোগ আসছে আমার কাছে। ২০২২ সালে যখন এসেছিলাম তখন বলেছিলাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে। চিকিৎসকের অভাব রয়েছে রাজ্যে। তবে রাজ্য চেষ্টা করছে সমস্যা মেটানোর। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অ্যাম্বুল্য়ান্স, চিকিৎসক, নার্সের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হবে। আপনি আমাকে এই প্রশ্ন করে ভালো করেছেন। দেরি হতে পারে মিথ্যা আশ্বাস দেব না।”

কুমারগ্রামের বাসিন্দা রাজেশ ওঁরাও বলেন এই মজুরিতে সংসার চলে না। দৈনিক মজুরি বৃদ্ধিতে কী করছে সরকার? প্রশ্ন শুনে মঞ্চে রাজেশকে ডেকে নেন অভিষেক। রাজেশ বলেন, “আমরা শুধু ১৪ দফার দাবির কথাই শুনি। আর হাতে পাই মাত্র ২৫০ টাকা। হাসপাতাল থেকে ওষুধ পাই না। জ্বালানি কাঠ দেয় না। বাগানে অ্যাম্বুল্যান্সেরও ব্যবস্থা নেই। নিজেদের ব্যবস্থা করে আলিপুরদুয়ারে পৌঁছতে হয়। আমরা কতটা বঞ্চিত দয়া করে দেখুন।”
অভিষেকের জবাব, “আপনার দাবি একেবারেই ন্যায্য। দৈনিক মজুরি, স্কুল যাতায়াতে সমস্যা, চিকিৎসার সমস্যা সবই সত্যি। ২০১১ সালে আমাদের সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার সময় ৬৭ টাকা দৈনিক মজুরি ছিল চা শ্রমিকদের। অনেক লড়াই করেছি। ২৫০ টাকা হয়েছে। এর আগে যখন এসেছিলাম ২৩২ টাকা ছিল। আমি মরে যাব তবু মিথ্যে কথা বলব না। আমি জানি আড়াইশো টাকায় সংসার চলে না। যেভাবে আলু, সবজি, পোশাক, জুতো, বাড়ি তৈরির সরঞ্জামের দাম বাড়ছে তাতে সম্ভব নয়। আমি কথা দিচ্ছি চতুর্থবার মমতার সরকার ক্ষমতায় আসলে প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হবে আলিপুরদুয়ারে। একটা ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করব। তাতে বাগান মালিক, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা থাকবেন। কমপক্ষে চা বাগানে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরি করার চেষ্টা করব।” 

সঙ্গীতা ওঁরাও জানান, তাঁর জায়ের কয়েকদিন আগে সন্তান হয়েছে। ক্রেশ বানানো নিয়ে জটিলতায় সন্তান পিঠে নিয়ে চা-বাগানে কাজ করতে হচ্ছে।
অভিষেকের জবাব, “৩৪টি চলছে। বাকি ক্রেশগুলিকে আগামী ২ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে। যখন কেউ চা বাগানে কাজ করতে যান তখন পাতা তুলতে তুলতে কাজ করা কঠিন তা আমি জানি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করব কথা দিচ্ছি।”

শেষে নিকিতা নাকাসিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ে করেছেন, রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা পাননি।
অভিষেকের জবাব, “আবেদনপত্র পাঠাবেন। টাকা পেয়ে যাবেন।” বিয়ের জন্য অভিনন্দনও জানান ওই তরুণীকে। বাকি প্রশ্নের পরে উত্তর দেবেন বলে জানান অভিষেক।

শুধু আশ্বাস নয়। বাস্তব সম্মতভাবে কবে সমস্যার সমাধান হবে তৃণমূলের সভাবপতি। কোনও ক্ষেত্র বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন, কখনও জানান, চতুর্থবার ক্ষমতায় এলে মা-মাটি-মানুষের সরকার ব্যবস্থা নেবে। অভিষেকের এই অভিনব উদ্যোগে আপ্লুত চা-শ্রমিকরা। আগে কখনও কোনও নেতৃত্বকে এভাবে সরাসরি জনসভা থেকে সমস্যা শুনে সমাধানের ব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে দেখাননি তাঁরা।

spot_img

Related articles

SIR শুনানির হয়রানিতে মৃত্যু বৃদ্ধের: অক্সিজেনের নল নাকে শুনানিকেন্দ্রে!

নির্বাচন কমিশন না কি অসুস্থ ও বৃদ্ধদের বাড়ি গিয়ে শুনানির ব্যবস্থা করছে। আদতে সেই পরিকল্পনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে...

ভেন্যু বদল ইস্যুতে ইউ টার্ন, বিতর্কের মধ্যেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা বাংলাদেশের

মুস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman) ইস্যুতে অবশেষে সুর নরম করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(BCB)। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে...

পরিষেবায় একই ‘ভুল’: গুজরাটে শাহর সাংসদক্ষেত্র এলাকায় জল খেয়ে হাসপাতালে শতাধিক

ডবল ইঞ্জিন রাজ্য হলেই সেখানে 'সোনার' পরিষেবা। বাংলায় নির্বাচনের দামামা বাজাতে এসে এমনটাই দাবি করেছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত...

আদরের অছিলায় ৩ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির! গ্রেফতার অভিযুক্ত

খাস কলকাতার বুকে মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির যৌন লালসার শিকার হয়ে ধর্ষিতা ৩ বছরের শিশুকন্যা(Three year old girl rape) !...