শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল বাংলাদেশের ব্যবসায়ী খোকন দাসের। ছুরি দিয়ে কুপিয়ে তারপর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ফের একবার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (minority) মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছিল যে ঘটনায়, এখনও পর্যন্ত সেই ঘটনায় কোনও গ্রেফতারি করতে পারেনি বাংলাদেশ পুলিশ-প্রশাসন। সেই ঘটনায় আক্রান্ত খোকন দাসের মৃত্যু হল শনিবার সকালে ঢাকার (Dhaka) হাসপাতালে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার শরিয়ৎপুর এলাকায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় সোহাগ খান, রাব্বি মোল্লা, পলাশ সরদার নামে তিন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। খোকনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে (Dhaka Medical College) ভর্তি করা হয়েছিল। তবে তাঁর শরীরে পোড়ার আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্ত্রোপচার করা হয়। তা সত্ত্বেও তাঁর জীবন সংশয়ের কথা জানানো হয়েছিল মেডিক্য়াল কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে।

শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ মৃত্যু হয় খোকন দাসের। এই মৃত্যুতে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হল বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের ইউনূস (Mohammed Yunus) সরকারের রক্ষা করার দাবি ঘিরে। ইতিমধ্যেই এই ইস্যুকে তুলে ধরে সুর চড়ানো শুরু করেছে বিএনপি (BNP)। দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে সরব ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারিক রহমান (Tarique Rahman)। এমনকি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে বার্ন ইউনিটে যখন শয্যা পাচ্ছিলেন না খোকন, তখন শয্যার ব্যবস্থাও করে দেন তারিকের প্রতিনিধি। কার্যত স্পষ্ট, রাজনৈতিক স্বার্থে সংখ্যালঘুকে বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে ইস্য়ু হিসাবে তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারকেও চাপে রাখতে চাইছে।
আরও পড়ুন : নতুন শিক্ষাবর্ষে ছুটি কমাল বাংলাদেশ! বাতিল একুশে ফেব্রুয়ারিসহ বহু ছুটি

যদিও বাংলাদেশের পুলিশের ব্যর্থতা ফের একবার এই ঘটনায় প্রকট হয়ে উঠেছে। শনিবার খোকন দাসের মৃত্যুর কথা জানায় ঢাকা পুলিশ। সেই সঙ্গে দাবি করা হয়, ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু বুধবার রাতে খুনের চেষ্টার ঘটনা, বৃহস্পতিবার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও শনিবার পর্যন্ত আততায়ীদের একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সেখানেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বাংলাদেশ প্রশাসনের সদিচ্ছার উপর।

–

–

–

–

–


