যেদিকে চোখ যায়, শুধু মানুষের মাথা আর মাথা। হুগলির পুইনান গ্রামে বিশ্ব ইজতেমা যেন মানুষের মিলনমেলা। কত মানুষ এসেছেন, তার সঠিক হিসেব করা কার্যত অসম্ভব। কেউ বলছেন ৫০ লক্ষ, কেউ ৮০ লক্ষ, আবার কারও মতে সংখ্যা ছুঁয়েছে এক কোটিও। এত বিপুল মানুষের সমাগমে প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল স্বাস্থ্য পরিষেবা।

ইজতেমায় যোগ দিতে এসে বিভিন্ন কারণে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা স্বাস্থ্য দফতরের কাছে ছিল বড় দায়িত্ব। প্রায় ৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ইজতেমা ময়দানের আশপাশে চারটি অস্থায়ী হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে মোট ১২০টি শয্যা, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক পরিষেবা, লাইফ সাপোর্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক মোবাইল স্বাস্থ্য পরিষেবা ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে। কেউ অসুস্থ হওয়ার খবর পেলেই দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন দিনে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন প্রায় ৩ হাজার জন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে ৩৬০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে চিকিৎসা চলাকালীন পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
হুগলি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্ক মৌলিকর জানিয়েছেন, গোটা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সব রকম সহযোগিতা করেছে। হুগলি জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্লকের বিএমওএইচরা এই কাজে যুক্ত ছিলেন। ইজতেমা পোলবা-দাদপুর ব্লক এলাকায় হওয়ায় পোলবা ব্লক হাসপাতালের কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনও তৎপর ছিল। এখনও পর্যন্ত বড় কোনও দুর্ঘটনার খবর নেই বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। বিপুল জনসমাগমের মধ্যেও ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন প্রশাসনের কর্তারা।

আরও পড়ুন – পারফরম্যান্স করেও ব্রাত্য শামি-পাণ্ডিয়া, ‘গম্ভীরের’ দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

_

_

_

_

_
_


