দেশাত্মবোধ খাচ্ছে না। এবার বাংলাদেশিদের দেশ থেকে বের করতে হবে – নতুন অ্যাজেন্ডা বিজেপির। আর সেই অ্যাজেন্ডা সামনে তুলে যেভাবে ডবল ইঞ্জিন রাজ্য ও গো-বলয়ে সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে দেওয়ার কাজ করছে বিজেপির নেতারা, তার সরাসরি প্রভাব বাংলার মানুষের উপর। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের (migrant labour) উপর যে অকথ্য অত্যাচার গত প্রায় ছয়মাস ধরে চালানো হচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে তার নতুন অধ্যায় রচনা করল দেবেন্দ্র ফাড়নবিশ (Devendra Fadnavis) শাসিত মহারাষ্ট্র (Maharashtra)। বাংলাদেশি (Bangladeshi) দাবি করে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের (Pandabeswar) তিন শ্রমিককে বেধড়ক মারধর করে ছিনিয়ে নেওয়া হল মোবাইল। কোনওক্রমে বাড়ি ফিরে নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলে রাজ্য প্রশাসনের তরফে তাঁদের রাজ্যেই কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল।

মহারাষ্ট্রে দীর্ঘদিন পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন পাণ্ডবেশ্বরের বহু পরিযায়ী শ্রমিক। সেই রকমই লাউদোহা ও সিরসা গ্রামের তিন পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ভাড়া নিতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হন। তাঁদের মুখে বাংলা কথা শুনেই একদল লোক তাঁদের উপর চড়াও হয়। মারধর করার পাশাপাশি তাঁদের থেকে টাকাপয়সা ও মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। তাঁদের মুখে বাংলা কথা শুনে পশুর মতো মারধর করা হয় তাদের। জোর করে মাদক খাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ করেন আক্রান্ত শ্রমিকরা। এরপরেও শেষ হয়নি নৃশংসতা। কারো মাথায় ঢেলে দেওয়া হয় গরম চা। এমনকি মাথায় বন্দুক ধরে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ করেন পরিযায়ী শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন : গোয়ায় মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে বিধায়ক! দিলেন আর্থিক সাহায্য
এরপরই কোনওক্রমে পাণ্ডবেশ্বরে নিজেদের বাড়ি ফিরে আসেন তিন পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের মুখে তাঁদের প্রতি হওয়া অমানবিকতার কথা শুনে আতঙ্কে পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা। এরপরই তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে তাঁদের বাড়িতে যান পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি আক্রান্ত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আশ্বাস দেন সাতদিনের মধ্যে রাজ্যেই তাঁদের কাজের ব্যবস্থা করার। তিনি জানান রাজ্য সরকার সবরকমভাবে তাঁদের পাশে রয়েছে। রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য যে পোর্টাল রয়েছে, তার মাধ্যমেই এই শ্রমিকদের উপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা তাঁরা করে দেবেন।

–

–

–

–

–

–


