যতক্ষণ না গায়ে আগুনের আঁচ লাগছিল গা বাঁচিয়েই খেলছিল ইউরোপের তথাকথিত শক্তিধর দেশগুলি। এমনকি ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) ঢুকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেনা সস্ত্রীক নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরে নিন্দা করা তো দূরের কথা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মতো দেশ স্বাগত জানিয়েছিলে আমেরিকার পদক্ষেপকে। তবে ৪৮ ঘণ্টা যেতে না যেতেই উল্টো সুর সেই দুই দেশের। ইউরোপের দিকে ট্রাম্প (Donald Trump) হাত বাড়াতেই হঠাৎ পৌরুষ জেগে উঠল দুই দেশের। ন্যাটো-র (NATO) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে সুর মিলিয়ে এবার আমেরিকাকে কড়া বার্তা ইউরোপের (Europe) সাত দেশের।

গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চিন যুদ্ধজাহাজ এনেছে, এই অজুহাত তুলে গ্রিনল্যান্ড (Greenland) আমেরিকার দখল করে নেওয়া উচিত। প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেন গোটা পৃথিবীতে মধ্যযুগ ফিরে এসেছে, যেখানে জোর যার মুলুক তার – এমনটাই চলতে পারে। এরপরই ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন (Mette Frederiksen) ইউরোপের দেশ গুলিকে জোটবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। গ্রিনল্যান্ড তথা কিংডম অফ ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, এই পরিস্থিতিতে যদি ইউরোপের শক্তিধর দেশগুলি প্রতিবাদে সামিল না হয়, তবে গোটা বিশ্ব তাদের দুর্বল বলেই মনে করবে।

ডেনমার্কের এই বার্তার পরই আইসল্যান্ড থেকে এস্তোনিয়া পর্যন্ত একাধিক দেশ মেট ফ্রেড্রিকসেনের পাশে দাঁড়ায়। এরপর রাষ্ট্রসঙ্ঘের বৈঠকে ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সেনা নামানোর বিরোধিতা করে বার্তা দেয় ফ্রান্স। সেখানেই সম্ভাবনা তৈরি হয় – ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির একজোট হওয়ার।
আরও পড়ুন : লাতিন আমেরিকার পরে এবার গ্রিনল্যান্ড দখল করবে ট্রাম্প! প্রবল প্রতিবাদ ‘ইউরোপের’

কার্যত গ্রিনল্যান্ডে হাত দেওয়ার অর্থ ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দেশ, কিংডম অফ ডেনমার্কে হাত দেওয়া বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয় ন্যাটোর বার্তায়। জানানো হয়, আর্কটিক সার্কেল অর্থাৎ উত্তর মেরুর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ন্যাটো অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি সচেতন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও (USA) এই নিরাপত্তার শরিক। তবে গ্রিনল্যান্ড (Greenland) শুধুমাত্র তার নাগরিকের। ফলে ডেনমার্ক (Denmark) এবং গ্রিনল্যান্ড একমাত্র নির্বাচন করতে পারে তাদের অন্তর্বর্তী বিষয়গুলিতে কে হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

–

–

–

–

–


