এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিশ ঘিরে আতঙ্কে রাজ্যে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত। মঙ্গলবার একই দিনে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে চার জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। শিলিগুড়ি লাগোয়া ফুলবাড়ি ডাবগ্রাম, কোচবিহারের হলদিবাড়ি ও দিনহাটা—এই তিন জায়গার পাশাপাশি কল্যাণী থেকেও মৃত্যু সংবাদ মিলেছে। পরপর এই ঘটনাগুলিতে কমিশনের ভূমিকা ও প্রক্রিয়ার মানবিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

মঙ্গলবার সকালে ফুলবাড়ি ডাবগ্রামের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় মহম্মদ খাদেমের। পরিবারের অভিযোগ, তাঁর নাম ভোটার তালিকায় না থাকায় শুনানির নোটিশ পেয়েছিলেন খাদেম। নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা তাঁকে গ্রাস করেছিল বলেই পরিবারের দাবি। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন খাদেম। খবর পেয়ে মৃতের বাড়িতে যান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

একই আতঙ্কে কোচবিহারের হলদিবাড়িতে আত্মহত্যা করেন গৃহশিক্ষক সুভাষ বর্মন (৪৫)। বাড়ির পিছনের বাঁশঝাড় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সুভাষের বাবা শশীকান্ত বর্মনের অভিযোগ, ছেলের স্ত্রীর এসআইআর নথিতে বাবার নামের জায়গায় দাদার নাম থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন সুভাষ। পরিবার দাবি করেছে, এই মানসিক চাপ থেকেই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন। যদিও সংশ্লিষ্ট বিএলও মৌসুমি পারভিন জানান, সুভাষ বর্মনের নিজের নথিতে কোনও সমস্যা ছিল না। সমস্যা ছিল তাঁর স্ত্রীর পরিচয় সংক্রান্ত একটি পুরনো ভুল, যা সমাধানযোগ্য বলেই তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও গভীর উদ্বেগ থেকে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে অনুমান।
এছাড়াও হলদিবাড়িতেই এসআইআর-সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যেই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মলিন রায়ের। পরিবারের দাবি, শুনানি ও নথি সংক্রান্ত চাপেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল।

দক্ষিণবঙ্গে কল্যাণী থেকে এসেছে আরও এক মর্মান্তিক খবর। এসআইআর শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল রত্না চট্টোপাধ্যায়কে। মঙ্গলবার শুনানির দিন দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দ্রুত তাঁকে কল্যাণী গান্ধী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

একদিনে চার জনের মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া হলদিবাড়িতে সুভাষ বর্মনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। পরপর এই মৃত্যুর ঘটনায় এসআইআর প্রক্রিয়ার চাপ, শুনানির পদ্ধতি এবং সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে কমিশনের ভূমিকা আরও মানবিক হওয়া প্রয়োজন কি না, সেই প্রশ্নই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।



