ভোটার তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতি সংশোধনের নামে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে অসন্তোষ। শুনানির নোটিশ নিয়ে হয়রানি, বারবার ডেকে পাঠানো এবং আতঙ্কের অভিযোগে মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিক্ষোভ, অবরোধ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি।

উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর ১ ব্লকে প্রায় ৮৫ হাজার ভোটারকে নতুন করে শুনানির নির্দেশিকা জারি করায় চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এই শুনানিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির আশঙ্কায় মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে ঝলঝলি মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিডিও অফিসের সামনে গিয়ে জমায়েত হয়। সেখানে পথসভা করে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন নেতারা। পরে গোয়ালপোখরের বিডিও তথা নির্বাচন কমিশনের এআরও কৌশিক মল্লিকের কাছে দাবিদাওয়া-সহ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী গোলাম রব্বানী, জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি গোলাম রসুল, ব্লক সভাপতি আহমেদ রেজা-সহ একাধিক নেতৃত্ব।

একই দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের নিমতলা এলাকায় এসআইআর নোটিশ ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পরিস্থিতি। একই ব্যক্তিকে একাধিকবার শুনানির নোটিশ পাঠানোর অভিযোগে পাঁশকুড়া–রাধামণি রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান কয়েকশ বাসিন্দা। মান্দারগড়, দরজা ও যশডুম্বুর এলাকার মানুষজন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ নিমতলা মোড়ে জড়ো হয়ে রাস্তা আটকে দেন। এর জেরে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে, দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েন যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁদের বারবার এসআইআর নোটিশ পাঠিয়ে মানসিক চাপে রাখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ সিরাজ আলীর কথায়, “একই শুনানির জন্য বারবার নোটিশ আসছে। কেন এমন হচ্ছে, তার কোনও জবাব নেই প্রশাসনের কাছে।” বিষ্ণুবাড় এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারাও একই অভিযোগ তুলে জানান, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় একাধিকবার যাচাইয়ের পরও নতুন করে নোটিশ পাঠানোয় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসনিক আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নিয়ে তমলুক ব্লক অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। তমলুকের বিডিও ওয়াসিম রেজা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে কালিয়াগঞ্জে এসআইআর আতঙ্কে এক দিনমজুরের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে তীব্র প্রতিবাদে নামে তৃণমূল। মঙ্গলবার কালিয়াগঞ্জ বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্লক তৃণমূল আহ্বায়ক নিতাই বৈশ্য, পুরপ্রধান বিশ্বজিৎ কুন্ডু, জেলা পরিষদের নারী ও শিশু কর্মাধ্যক্ষ লতা সরকার-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, সোমবার ধনকৈল হাটে গরু বিক্রি করতে গিয়ে লক্ষ্মীকান্ত রায় নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা সংক্রান্ত শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি।

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরাতেও এসআইআর ও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করে তৃণমূল। ভগবানপুর বাজারে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য, বিধায়ক অজিত মাইতি-সহ একাধিক নেতা। সভা থেকে বিজেপি ছেড়ে কয়েকজন নেতৃত্ব তৃণমূলে যোগ দেন। হাওড়ার জগৎবল্লভপুরেও শুনানিতে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে বিডিও অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তৃণমূল কর্মীরা। কিছুক্ষণের জন্য শুনানির কাজ বন্ধ থাকলেও পরে প্রশাসনিক আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে এই বিক্ষোভে স্পষ্ট, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও মানবিকতার দাবি তুলে আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে শাসকদল।

আরও পড়ুন- বিজেপি বিধায়কের মুখে অশ্লীল ভাষা: শাস্তির বদলে সাফাই দিল রাজ্য নেতৃত্ব!

_

_

_

_
_


