Tuesday, February 24, 2026

অপরিকল্পিত এসআইআরে মহিলারাই টার্গেট! বিজেপির দলদাস কমিশনকে নিশানা তৃণমূলের

Date:

Share post:

অপরিকল্পিত এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার চক্রান্ত চলছে। বিজেপির দলদাস কমিশন (Electiom commission) এই কাজে বিশেষভাবে টার্গেট করেছে মহিলাদের। বুধবার তৃণমূল (TMC) ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে নিশানা করলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও পার্থ ভৌমিক।
তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, বাঁকুড়ায় বিজেপির চক্রান্তের পর্দা ফাঁস হয়ে গিয়েছে। গাড়িভর্তি এসআইআর ফর্ম ৭ কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? বমাল ধরা পড়েছেন বিজেপি নেতারা। স্পষ্ট, এর পিছনে রয়েছে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বৈধ ভোটারকে অবৈধ বানানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কমিশন ও বিজেপি ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম ঢোকানোরও চেষ্টা করেছে। ফর্মগুলিতে তালড্যাংরা বিধানসভার ভোটারদের নাম রয়েছে। ওই ফর্মগুলি ব্ল্যাঙ্ক ছিল না, আগে থেকেই পূরণ করা ছিল। অর্থাৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই বিপুল সংখ্যক ফর্ম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, টি এন সেশনের সময় যে গরিমা ছিল, তা আজকের নির্বাচন কমিশনের নেই। সেই গরিমাকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। স্বয়ংশাসিত সংস্থাকে বিজেপির দলদাসে পরিণত করা হয়েছে। বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার হার অন্য রাজ্যের তুলনায় কম দেখে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র মতো নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। শুধু বাংলার ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কেন? কাগজ জমা দিলেও তার কোনও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। একজন বিএলও নাকি ১০টি ফর্ম ৭ জমা দিতে পারে। তাহলে এই হাজার হাজার নাম এল কোথা থেকে?যাঁদের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হচ্ছে, তাঁদের অবৈধ প্রমাণ করার দায় আপত্তিকারীরই। কিন্তু এখানে দল বেঁধে নাম জমা দিয়ে ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পার্থ বলেন, ‘হিটলারি কায়দায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপির নেতারা যখন দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন, তখন কমিশন যেন সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। কিন্তু এটা বাংলা। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। এখানে এই অপচেষ্টা আটকাবই।
এদিন শিল্প প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যের পাল্টা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, সিঙ্গুরে কৃষি জমি যে অন্যায়ভাবে অধিগৃহীত হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়ে জানিয়েছিল। যেদিন তাপসী মালিককে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, তখন সুকান্তবাবুদের দেখা যায়নি। এখন ভোটের আগে শিল্পের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুম্ভমেলার জন্য কেন্দ্র কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও, গঙ্গাসাগরের মতো আন্তর্জাতিক মানের মেলার জন্য এক পয়সাও দেয় না। অথচ এখান থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।

spot_img

Related articles

মে মাসেই রাজ্য জয়েন্ট! দায়িত্ব নিয়েই জানালেন গৌতম পাল

রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা হবে মে মাসের শুরুতেই। ভোট মিটলেই নেওয়া হবে পরীক্ষা।  রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান...

ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় স্বস্তি! সুপ্রিম কোর্টে মান্যতা রাজ্যের যুক্তিতে

এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপড়েনে অবশেষে ইতি টানল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের মঙ্গলবারের...

প্রকাশিত জেইই মেইন ২০২৬-এর দ্বিতীয় পত্রের ফলাফল, নজর কাড়ল বাংলার পড়ুয়ারা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশিত হল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা জেইই মেইন ২০২৬-এর জানুয়ারি সেশনের দ্বিতীয় পত্রের...

ISF-এর সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত বামেদের: নওশাদের সঙ্গে বৈঠক বিমান-সেলিমের, বুধে আসন রফা

জোটের মুখ রক্ষায় একজন বিধায়কই আছেন বিধানসভায়। কংগ্রেস আগেই হাত ছেড়েছে। সেই কারণে আইএসএফ-কে আর হাত ছাড়া করতে...