গত বছরের জুন মাসের আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI-171 দুর্ঘটনার তদন্ত নিয়ে ফের দ্বন্দ্ব। সেদিনের দুর্ঘটনার তদন্তের কারণে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দকে তলব করেছে। এর ফলেই এবার ক্ষুব্ধ পাইলটদের সংগঠন ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (FIP)। AAIB-কে লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হয়েছে সংগঠনের তরফে। এই তলব বেআইনি এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের বিরোধী বলেই সাফ জানিয়েছে তারা। প্রসঙ্গত, বরুণ এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফ্লাইটের প্রয়াত পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালের আত্মীয়।

প্রথম থেকেই সংগঠনের দাবি ছিল, তদন্তকারীরা এই দুর্ঘটনার জন্য পাইলটের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। এবারও তারা এমন একটা প্রেক্ষাপট তৈরীর চেষ্টা করছেন, যাতে মৃত পাইলটের ঘাড়ে সব দোষ চাপানো যায়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী ফ্লাইট আমেদাবাদ থেকে ওড়ার ঠিক পরেই ক্র্যাশ করেছিল। ফ্লাইটের একজন ছাড়া বাকি সব যাত্রী এবং পাইলট সহ সব কর্মী মারা গিয়েছিলেন।

জানা গিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দকে জানানো হয়েছে, ওই ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য তাঁকে AAIB ডেকে পাঠিয়েছে। পাইলটদের সংগঠন এই নিয়ে আপত্তি তুলে জানায় ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দের সঙ্গে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফ্লাইটের কোনওরকম সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র বরুণ এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফ্লাইটের পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালের আত্মীয় বলেই এভাবে তাঁকে ডেকে পাঠানো যায় না।
অন্যদিকে AAIB তলবের পক্ষে কোনও যুক্তি দেখাতে পারেনি বলেই জানিয়েছে FIP। ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দ ওইদিনের দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন, টেকনিক্যাল কোনও দায়িত্বে ছিলেন না। তিনি কোনও এক্সপার্টও নন তাই এই তলব একেবারেই অমূলক। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজ়েশনের (ICAO) একটি অনুচ্ছেদ দেখিয়ে FIP জানিয়ে দেয় বিমান দুর্ঘটনায় পাইলট মারা গেলে, তদন্তের সময়ে তাঁর পরিবারকে ডেকে আনা একেবারেই বেআইনি। তবে এতকিছুর পরেও ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দ এই তলবে সাড়া দেবেন বলেই জানা গিয়েছে।

–

–

–

–

–

