সিআরপিএফ ক্যাম্পে নাবালিকা নির্যাতন! ঘটনাটি ঘটেছে গ্রেটার নয়ডার এক সিআরপিএফ ক্যাম্পে। যেখানে এক ১০ বছরের নাবালিকার (Minor girl abuse) উপর অমানবিক অত্যাচারের অভিযোগে সরব হয়েছে গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। দলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, সিআরপিএফ ক্যাম্পের ভিতরেই, কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক সদস্যের বিরুদ্ধে এত গুরুতর শিশু নির্যাতনের ঘটনার নৈতিক ও প্রশাসনিক দায় এড়িয়ে যেতে পারে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

সোমবার সকালে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি চেয়ে জানানো হয়েছে, সিআরপিএফ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন একটি বাহিনী। ফলে বাহিনীর এক সদস্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নাবালিকার উপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে, তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় স্বাভাবিকভাবেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর উপর বর্তায়।

.@AmitShah’s Home Ministry has blood on its hands again, as a 10-year-old girl clings to life in critical condition after enduring months of savage, prolonged physical abuse at the hands of a CRPF constable in Noida.
This innocent child, exploited as house help in the monster’s… https://t.co/uEIQlb4JUm
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) January 19, 2026
জানা গিয়েছে, এক ১০ বছরের নাবালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন করেছে সিআরপিএফ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী। গুরুতর অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে চিকিৎসাধীন। তাঁর পাঁজরের একাধিক হাড় ভাঙা, দাঁত ভাঙা, নখ উপড়ে নেওয়া হয়েছে এছাড়াও রয়েছে শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন। নাবালিকার রক্তে হিমোগ্লোবিন মাত্র ১.৯। আরও পড়ুন: বেহালায় ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার দূরদর্শনের সঙ্গীতশিল্পীর রক্তাক্ত দেহ

ঘটনায় মুখ বাঁচাতে ওই কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত কনস্টেবলের নাম তারিক আনোয়ার। তিনি নয়ডার সিআরপিএফ হাসপাতালে ফার্স্ট এইডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জানা গিয়েছে, শিশুটি তাঁর স্ত্রীর আত্মীয়া। অভিযোগ, ওই নাবালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারে থেকে সমস্ত গৃহস্থালির কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছিল। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর ২টার দিকে, মেয়েটি বাথরুমে পড়ে গেলে তাকে সর্বোদয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা গুরুতর জখম দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানান। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে বারবার ওই কনস্টেবল মেয়েটিকে ছুটি দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে নাবালিকাকে সেক্টর-১২৮-এর ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাঁকে।

এই ঘটনায় যদিও কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে হত্যার চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন এখনও নীরব এবং কেন এই ঘটনায় মূলধারার একাংশ সংবাদমাধ্যম কার্যত নিশ্চুপ।

যদিও সিআরপিএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কেন্দ্রিয় বাহিনীর তরফে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তারা বহন করবে। এই ঘটনার তদন্ত চললেও, প্রশাসনিক দায়, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জবাবদিহি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।

–

–

–

–


