Friday, April 17, 2026

বুদ্ধি খাটিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভেরোনিকা: এই গরু এখন গবেষকদের চর্চার বিষয়

Date:

Share post:

কে বলেছে নির্বুদ্ধিতার কাজ করলে তাকে গরু বলে ডাকতে হবে! এতদিন যা করেছেন এবার সেই অভ্যাস বদলানোর সময় এসেছে। অন্তত অস্ট্রিয়ার (Austria) ভেরোনিকার কাহিনী শোনার পর আর গরু মানে বোকা – এমন দাবি কেউ করতে পারবে না।

সাধারণত যে সব জিনিস মানুষ নিজের প্রয়োজন ও স্বাচ্ছন্দের জন্য ব্যবহার করে, তা পশুদের ব্যবহার করার নজির খুব একটা নেই। ব্যতিক্রম শিম্পাঞ্জি (chimpanzee)। কারণ মস্তিষ্কের যে অংশের ব্যবহারে যন্ত্রপাতি (tools) বা সামান্য লাঠি ব্যবহার করা সম্ভব, সেই অংশ ব্যবহার করতে পারে না পশুরা। আর এখানেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব – দাবি করে বিজ্ঞান।

বিজ্ঞানের চিন্তাধারাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে অস্ট্রিয়ার ভেরোনিকা। এই গরুর বুদ্ধি নতুন করে গবেষণার রসদ যুগিয়েছে বিজ্ঞানীদের। কী করে ভেরোনিকা? লাঠি বা মাঠ পরিষ্কার করার লাঠির সঙ্গে যুক্ত যন্ত্র, সাধারণ ব্রাস – এসব কীভাবে নিজের কাজে লাগাতে হয়, রপ্ত করে ফেলেছে ভেরোনিকা (Veronica)।

গুরুর গায়ে মশা মাছির উপদ্রব লেগেই থাকে। নিজেদের লেজ দিয়ে নিজেদের শরীরকে রক্ষা করার চেষ্টা তারা চালায়। তবে মশার কামড় খেলে জ্বালা তাদেরও করে। সেক্ষেত্রে নিজেদের খরখরে জিভ দিয়ে চুলকানোর কাজ করে তারা। একদিকে শরীর পরিষ্কার অন্যদিকে চুলকানোর কাজও হয়ে যায়। শুধু গরু কেন, যে কোনও পশুই এই এক পদ্ধতি অবলম্বণ করে। তবে কাজটা যে বেশ কষ্টসাধ্য তা যে কোনও পশুকেই দেখলে বোঝা যায়।

এই ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি পেতে বুদ্ধি খাটিয়েছে ভেরোনিকা। লাঠি বা মাঠ পরিষ্কার করার লম্বা ঝাঁটা বা ব্রাস ব্য়বহার করছে ভেরোনিকা। মুখে করে সেই যন্ত্রটি (tool) তুলে নিয়ে শরীরের অংশ ঘষে চুলকানোর (scratching) কাজ সারছে সে। শরীরের নরম অংশে চুলকানোর প্রয়োজন হলে লাঠির ভোঁতা অংশ ব্যবহার করছে সে। আবার শক্ত চামড়ার অংশের প্রয়োজনে ঝাঁটার খসখসে দিকটাই আরাম দিচ্ছে তাকে। একদিকে মুখে করে ব্যবহারের বুদ্ধি প্রয়োগ করেছে সে। অন্যদিকে কোন জিনিস কীভাবে ব্যবহার করলে সঠিক ফল পাওয়া যাবে – তাতেও মুনশিয়ানা দেখিয়েছে সে। যার ফলে এবার ভেরোনিকাকে নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে নতুন করে।

আরও পড়ুন :

স্মার্টফোনের জমানায় স্মার্ট শিশুরা তাক লাগিয়ে দিচ্ছে এটা ওটা সেটা করে। সেই বাজারে পশুদেরও যে সেই উত্তরণ হবে না – এমনটা ভাবার অবকাশ থাকেই। ইউরোপের দক্ষিণ অস্ট্রিয়ার ক্যারিনথিয়ান আল্পসের গাভি প্রজাতি নিয়ে এর আগে উৎকর্ষের তেমন খবর পাওয়া যায়নি। তবে ১৩ বছরের ভেরোনিকা নতুন করে সেই এলাকার পশু, বিশেষত গরুদের নিয়ে ভাবতে শেখাচ্ছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এই বাদামী গরুকে দেখতে গ্রামে ভিড় বাড়ছে ভিন দেশের গবেষক থেকে ভিডিওগ্রাফারদেরও। সকলেই পরখ করে দেখতে চাইছেন ভেরোনিকা সত্যিই এত কিছু পারে, না কি সবটাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কেরামতি?

Related articles

বিরোধী থেকে রাজ্যের মানুষ: নির্বাচনে জিততে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিক্রেট ফাঁস

বাংলায় বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনী প্রচার থেকে বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়...

বিডিও-র অধীনে প্রিসাইডিং অফিসার অধ্যাপকরা! কমিশনের পদক্ষেপে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

একের পর এক নিত্য নতুন, অসামান্য পদক্ষেপ বাংলার বিধানসভা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি কোথাও কোথাও...

কেরালমের ভোট পরিসংখ্যান কোথায়: নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশনে তৃণমূল

নির্বাচন হয়ে গিয়েছে ৯ এপ্রিল। অথচ বিরোধী রাজ্য কেরালমের ভোট পরিসংখ্যান এখনও কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড হয়নি। চলতি বিধানসভা...

শীর্ষে ওঠার স্বপ্নে জোর ধাক্কা! ব্রিটেনকেও ছুঁতে পারল না, বিশ্ব অর্থনীতিতে কোণঠাসা ভারত

বিশ্ব অর্থনীতির ‘সুপার পাওয়ার’ হওয়ার হাঁকডাক আর তর্জন-গর্জন কি তবে শুধুই প্রচারের ফানুস? আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের (আইএমএফ) সাম্প্রতিকতম...