Friday, June 19, 2026

BLO অ্যাপের ভুল! তা সত্ত্বেও SIR শুনানির হয়রানি, চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন শশী

Date:

Share post:

সাধারণ মানুষের সব নথি সঠিক থাকা সত্ত্বেও কেউ আনম্যাপড, কেউ লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় পড়েছেন। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন থেকে রাজ্যের সাংসদ বিধায়ক মন্ত্রীদের প্রায় প্রতিদিনই ডাক পড়ছে কমিশনের হাজিরা কেন্দ্রে। তবে কোনও কারণ না থাকলেও যে এই ডাক পড়ছে শুধুমাত্র বাংলার মানুষ, তৃণমূলের নেতা-সমর্থক থেকে মন্ত্রীদের হয়রান করার জন্য তা প্রমাণ করে দিলেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (voter list) নাম রয়েছে, সব নথি সম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে আনম্যাপড করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। রবিবার শুনানিকেন্দ্রে গিয়ে সেই হয়রানির উদাহরণ তুলে ধরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শশী পাঁজা। চোখে আঙুল দিয়ে তিনি দেখিয় দেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পাসপোর্টকেই (passport) নথি হিসাবে গণ্য করে বাংলার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চক্রান্ত করছে নির্বাচন কমিশন।

২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম ছিল রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার (Shashi Panja)। ২০২৫ সালে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন তিনি ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলাপ করেছেন। ২০২৫ সালে যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তাতে নাম রয়েছে তাঁর। সেই সঙ্গে তাঁর পরিবারের চার সদস্যেরও একইভাবে নাম রয়েছে। এর পরেও শুনানির নোটিশ পৌঁছায় শশী পাঁজার কাছে। পরিবারের একমাত্র সদস্য তিনি, যাঁর খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও নাম উঠেছে আনম্যাপড (unmapped) তালিকায়। রবিবার কেশব অ্যাকাডেমিতে শুনানিতে অংশ নিতে যান শশী পাঁজা (Shashi Panja)। সেখানে সব নথি ছেড়ে শুধুমাত্র পাসপোর্ট (passport) জমা দিতে দাবি করা হয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে।

সেখানেই প্রথম প্রশ্ন তোলেন শশী পাঁজা, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ও খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকার পরেও কীভাবে তাঁর কাছে শুনানির নোটিশ পৌঁছায়। যদি বিএলও অ্যাপে নাম না দেখানোর জন্য এই নোটিশ যায় তিনি আনম্যাপড বলে, তবে সেটা অ্যাপের সমস্য়া। নির্বাচন কমিশনের অ্যাপ সমস্য়ার জন্য যেভাবে রাজ্যের মন্ত্রীকে হয়রান হতে হচ্ছে, সেভাবেই রাজ্যের সাধারণ মানুষদেরও হয়রান হতে হচ্ছে। ভুল কমিশনের, সাধারণ ভোটারকে গিয়ে নিজের ভোটার হওয়ার প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, একইভাবে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় নাম এসেছিল নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের। সেখানেই এমন একটি যুক্তি দেখানো হয়েছিল যা ভুল ছিল। ২০০২ সালের তালিকা অনুযায়ী অমর্ত্য সেনের মায়ের বয়সের যে ফারাক ছিল তা কমিয়ে দেখিয়ে তাঁকে এই অসঙ্গতির তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে নিজেদের ভুল বুঝতেও পেরেছিল কমিশন। সেক্ষেত্রে রাজ্য অন্তত দুটি উদাহরণ এমন উঠে এল, যেখানে স্পষ্ট প্রমাণিত – নিজেদের ভুলে সাধারণ বৈধ ভোটারদের হয়রান করছে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন : কোথায় তালিকা! সুপ্রিম কোর্ট থেকে দিল্লি, নির্দেশের পরেও কমিশনের তালিকা পেল না বাংলা

এখানেই শেষ নয়, রবিবার মন্ত্রী শশী পাঁজা কমিশনের দেওয়া ১৩টি নথির মধ্যে দুটি নথি নিয়ে যান। তাঁর ২০০২ সালের তালিকার প্রতিলিপি ও আধার কার্ড ছিল। কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টে স্বীকৃত এই নথি নিতে চায়নি শুনানিকেন্দ্রের আধিকারিকরা। দাবি করা হয়, তাঁকে পাসপোর্টই দিতে হবে। এরপরই প্রতিবাদে বেরিয়ে আসেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নথি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পাসপোর্ট কেন চাওয়া হচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষের মতো দুটি নথি দিতে চাইলে প্রথমে কমিশনের আধিকারিকরা তা গ্রহণ করেননি। প্রতিবাদে বেরিয়ে আসেন শশী পাঁজা। এরপর আধিকারিকরা তাঁকে ডেকে ভিতরে নিয়ে যান এবং সেখানেও তিনি পাসপোর্টের প্রতিলিপি জমা দেননি। স্পষ্ট জানান, তাঁর ভয় লাগছে সাধারণ মানুষের জন্য। যাঁদের এভাবে হয়রান করা হচ্ছে নথির জন্য। এতে শুধু ভোটারদের হয়রানি নয়, বিএলও-দের হেনস্থা হতে হচ্ছে।

Related articles

২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে মমতা-অভিষেককে অবমাননা নোটিশ হাইকোর্টের, প্রতিক্রিয়া কুণালের

একুশে জুলাই শহিদ স্মরণে রাস্তা বন্ধ করে সভা নয়। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং দলের সর্বভারতীয়...

গ্রেফতার তারকেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দু

দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়কে (Ramendu Singha Roy)। সরকারি...

প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু

একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে ফের বিপর্যস্ত হল পাহাড়-সমতলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুক্রবার সকালে বালাসন নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায়...

যোগ দিবসের কর্মসূচিতে সরকারি কর্মীদের যোগদান বাধ্যতামূলক নয়, সাফ জানালো হাই কোর্ট

২১ জুন যোগ দিবসের কর্মসূচিতে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। শুক্রবার জানাল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High court)।...