একটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে আদতে বাংলাতে গণতন্ত্রকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে সুপ্রিম কোর্টকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজ্য এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো নির্বাচন কমিশন আবার ঘটা করে জাতীয় ভোটার দিবস (National voters day) পালন করেছে। আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের। নির্বাচন কমিশনের এই উদযাপনকে প্রহসন বলে কটাক্ষ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। এই দিনটিতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পালন না করে যেভাবে মানুষের ভোটাধিকার হরণের যৌথ পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির, তার কড়া প্রতিক্রিয়া বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর।

জাতীয় ভোটার দিবসে কমিশনের কর্মসূচির সমালোচনা করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ জাতীয় ভোটার দিবস পালন (National Voters Day) করছেন এবং সেটাকে একটি করুণ প্রহসনের মতো দেখাচ্ছে। হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, এবং তাদের ঔদ্ধত্য হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করার—আমি এতে স্তম্ভিত, বিস্মিত, বিচলিত।

যেভাবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এসআইআর চালাচ্ছে কমিশন, তা স্পষ্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করার পরিবর্তে এবং বিধি-নিয়ম অনুসারে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন এখন লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির (logical discrepancy) নামে নতুন-নতুন অজুহাত তৈরি করে চলেছে। মানুষকে অত্যাচার করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে! তাদের প্রভু বিজেপি-র হয়ে তারা বিরোধীদের ধ্বংস করতে চায় এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে আঘাত করতে চায়। এদেরই আবার সাহস হচ্ছে ভোটার দিবস উদযাপন করার!

নির্বাচন কমিশনকে বলি: আপনারা মানুষকে অভূতপূর্ব অত্যাচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন, আপনাদের অত্যাচারের ফলেই এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। আপনারা যেভাবে ৮৫, ৯০ , ৯৫ বছরের মানুষকে ডেকে পাঠাচ্ছেন এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষকেও আপনাদের সামনে হাজির হতে বাধ্য করছেন তা করার অধিকার কি আপনাদের আছে? এই বেআইনি চাপ ও নিগ্রহের ফলেই আত্মহত্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এবং আপনারা এটা করছেন আপনাদের রাজনৈতিক প্রভুর নির্দেশে ও স্বার্থে, কমিশনের অত্যাচার নিয়ে এভাবেই তোপ দাগেন মমতা।

আরও একবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই এসআইআর প্রক্রিয়ার পিছনেই লুকিয়ে রয়েছে বিজেপি ও কমিশনের যৌথভাবে বৈধ ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নাগরিকত্ব হরণ করার চক্রান্ত। তিনি দাবি করেন, এটাকে আপনারা নাগরিকদের জন্য NRC প্রক্রিয়া বানিয়ে তুলেছেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তপশিলি জাতি ও জনজাতির মানুষের জন্য এটা বিশেষ পীড়ার কারণ হয়েছে।

আরও পড়ুন : BLO অ্যাপের ভুল! তা সত্ত্বেও SIR শুনানির হয়রানি, চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন শশী

বাস্তবে গণতন্ত্রের হত্যাকারী নির্বাচন কমিশনের ভোটার দিবস পালনের অধিকার নেই। বিস্ফোরক বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দাবি, নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু আপনাদের পক্ষপাত- দুষ্ট আচরণ এবং একতরফা বেআইনি কান্ডকারখানা, মাইক্রো অবজারভার প্রভৃতিদের দলে দলে পাঠিয়ে সেই নিগ্রহ বৃদ্ধি এবং মানুষকে দলে দলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া পরিণতিতে আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। ভোটার দিবস পালনের কোনও অধিকার আপনাদের আজ নেই।

ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করছেন এবং সেটাকে একটি করুণ প্রহসনের মতো দেখাচ্ছে। হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, এবং তাদের ঔদ্ধত্য হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করার—আমি এতে স্তম্ভিত, বিস্মিত, বিচলিত।
মাননীয়…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) January 25, 2026
–

–



