মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে তীব্র তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দক্ষিণ থেকে উত্তর-পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ মাইল বিস্তৃত এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। বরফে ঢেকে গিয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মাইল এলাকা তুষারপাত (snowfall) ও বরফে ঢাকা পড়তে পারে।

মেরিল্যান্ডের মার্কিন আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ জ্যাকব আশেরম্যান এই ঝড়কে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। জাতীয় আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, রকি পর্বতমালা, সমভূমি অঞ্চল, মধ্য-আটলান্টিক ও উত্তর-পূর্ব আমেরিকার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে তুষারপাতের পরিমাণ এক ফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ঝড় কেটে যাওয়ার পর তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রির নীচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তীব্র তুষারঝড়ে (snow storm) জেরে বিদ্যুৎ পরিষেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে, উপড়ে গিয়েছে গাছপালা। রবিবার ভোর ২টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন ছিলেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে লুইসিয়ানা, মিসিসিপি, টেক্সাস, টেনেসি ও নিউ মেক্সিকো।

তুষারঝড়ের পাশাপাশি বহু জায়গায় শুরু হয়েছে তুষার বৃষ্টি বা ‘থান্ডার আইস’। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০টি অঙ্গরাজ্যে জারি করা হয়েছে কড়া সতর্কতা। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তুষারপাত ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহের জন্য সতর্ক করা হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত অঙ্গরাজ্যের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমরা সব রাজ্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। সবাইকে নিরাপদ থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন : জম্মু ও কাশ্মীরে ভয়াবহ তুষারপাতের জের, বরফের তলায় চাপা পড়লেন যুবক!

তীব্র ঝড়ের (snow storm) প্রভাব পড়েছে আকাশপথেও। একের পর এক বিমান বাতিল (flight cancel) করা হচ্ছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার বিমান বাতিল হয়েছে। রবিবারের জন্যও বাতিল করা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট। প্রধান বিমান সংস্থাগুলি যাত্রীদের হঠাৎ ফ্লাইট পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।



