একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যখন গোটা বিশ্ব সাম্য আর মানবাধিকারের কথা বলছে, আফগানিস্তান (Afghanistan Crisis) তখন হাঁটছে উল্টো পথে। তালিবান সুপ্রিম লিডার হিবাতুল্লা আখুন্দজাদার নতুন এক আইনে দেশটিতে কার্যত বৈধতা পেল দাসপ্রথা। নতুন এই আইন অনুযায়ী, অপরাধ এক হলেও কেবল সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে বদলে যাবে শাস্তির ধরন। একদিকে যখন প্রভাবশালী মোল্লাদের জন্য থাকছে কেবল ‘উপদেশ’, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও নারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন।

তালিবানি এই নতুন সংবিধানে আফগান নাগরিকদের স্পষ্ট চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সমাজের সর্বোচ্চ স্তরে থাকা ‘উলেমা ও মোল্লা’ শ্রেণির ব্যক্তিদের সাত খুন মাফ। কোনো অপরাধ করলেও স্রেফ ধর্মীয় উপদেশের মাধ্যমেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। ‘আশরাফ বা উচ্চবিত্ত’ অর্থাৎ দ্বিতীয় স্তরের এই নাগরিকদের অপরাধের জন্য বড়জোর আদালতে হাজিরা দিতে হবে। সেখানেও নামমাত্র সতর্ক করে তাঁদের মুক্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। মধ্যবিত্ত নাগরিকদের ক্ষেত্রে আইন কিছুটা কঠোর। অপরাধ করলে রীতিমতো তদন্ত হবে এবং জেল খাটার সম্ভাবনাও প্রবল। সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে থাকা এই মানুষেরাই আইনের আসল কোপে পড়বেন। তাঁদের জন্য কঠোর কারাদণ্ড, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে। আরও পড়ুন: দায়িত্ব নিয়েছিলেন অভিষেক, সেবাশ্রয় ২-এর মধ্যমে চিকিৎসা করিয়ে নিরাময় ১০ বছরের অনুরাগের

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই আইনের মাধ্যমে নারীদের কার্যত চতুর্থ শ্রেণিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে বিনা বিচারে নারীদের ওপর নির্যাতনের পথ প্রশস্ত হলো। এছাড়া নতুন আইনে স্পষ্ট করে ‘দাস’ বা ‘গোলাম’ প্রথাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই দাসদের কোনো নাগরিক অধিকার নেই; মালিক বা উচ্চবিত্তরা চাইলেই তাঁদের ওপর শারীরিক আঘাত করতে পারবেন। এক কথায়, নারীদের দাস হিসেবে ব্যবহার করার মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও আইনি সিলমোহর দিয়েছে তালিবান প্রশাসন।

ইরানের আদলে আফগানিস্তানেও কট্টর ‘মোল্লাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার এই চেষ্টা দেখে শিউরে উঠছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। যেখানে সারা বিশ্ব দাসপ্রথা ও বর্ণবাদ বিলোপের লড়াইতে শামিল, সেখানে আফগানিস্তান যেন সময়ের কাঁটা কয়েকশ বছর পিছিয়ে দিল। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, এই আইনের ফলে দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় আরও চরম আকার ধারণ করবে।

–

–

–

–

–

–


