অফিসের হাজিরা খাতায় এখন আর শুধু ক্যাজুয়াল বা সিক লিভ নয়, সসম্মানে জায়গা করে নিয়েছে ‘মেন্সট্রুয়েশন লিভ’ (Menstruation Leave)। গত বছরের নভেম্বর মাসেই কর্নাটক (Karnataka) সরকার মহিলা কর্মীদের জন্য মাসে একদিন করে সবেতন ঋতুকালীন ছুটির নির্দেশিকা দিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই নীতিকে নতুন করে স্বীকৃতি দিল কর্নাটক শিক্ষা দফতর।

এদিন কর্নাটক স্কুল শিক্ষা দফতরের কমিশনার বিকাশ সুরলকর এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের মনোবল বাড়ানো এবং তাঁদের শারীরিক বাস্তবতাকে প্রশাসনিক স্বীকৃতি দেওয়া।

১৮ থেকে ৫২ বছর বয়সী মহিলা কর্মীরা এখন শারীরিক কষ্ট লুকিয়ে কাজ করার বদলে অনায়াসেই মাসে একদিন এই বিশেষ ছুটি নিতে পারবেন। ১২ নভেম্বর ২০২৫-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্থায়ী কর্মী থেকে শুরু করে চুক্তিভিত্তিক বা আউটসোর্সড—সব স্তরের মহিলারাই এই অধিকারের আওতায় এসেছেন।

সম্প্রতি এই নিয়ম চালু হওয়ার পর বেঙ্গালুরুর এমএস বিল্ডিং কমপ্লেক্সে এক ভিন্ন ছবি দেখা গেল। ক্লার্ক অনিতা রামকৃষ্ণ সকাল সোয়া ন’টা নাগাদ ল্যাপটপ বন্ধ করে বাড়ির পথ ধরলেন। পিঠের যন্ত্রণা আর পিরিয়ডসের ক্লান্তি নিয়ে তাকে আর লড়াই করতে হয়নি; বরং অনলাইনের নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে সরাসরি আবেদন জানালেন সদ্য চালু হওয়া মেন্সট্রুয়েশন লিভের। ১২ বছরের কর্মজীবনে এই প্রথম কোনো লুকোছাপা বা মিথ্যে অজুহাত ছাড়াই নিজের শারীরিক বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিতে পারলেন তিনি। অনিতার মতে, “সিস্টেম অন্তত এটা মেনে নিয়েছে যে প্রতি মাসে আমরা কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাই। এটাই আমাদের বড় জয়।”

২০২৫-এর এই নতুন নীতি অনুযায়ী,
১৮ থেকে ৫২ বছর বয়সী মহিলারা এই ছুটি পাবেন।
ছুটির মেয়াদ হল মাসে ১ দিন করে অর্থাৎ বছরে মোট ১২ দিন।
এটি বেতনসহ ছুটি।
কোনও মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের দরকার নেই।
ইলেকট্রনিক এমপ্লয়ি ডেটাবেস সিস্টেমে আবেদন করতে হবে।
ক্যাজুয়াল লিভ যিনি অনুমোদন করেন, তিনিই এটি মঞ্জুর করবেন।

তবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও বেঁধে দেওয়া হয়েছে যাতে কাজের গতি বজায় থাকে এবং এই নির্দেশিকার অপব্যবহার রোধ করা যায়। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে মাসের ছুটি সেই মাসেই নিতে হবে, পরের মাসে তা যোগ হবে না। এই ছুটি অন্য কোনো ছুটির সঙ্গে জোড়া যাবে না। শিক্ষা দফতরের সেকশন অফিসার শোভা কে-র মতে, জরুরি ফাইল বা আদালতের মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলে আগাম পরিকল্পনা বা বিকল্প ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক।

গদাগ জেলার মীনাক্ষী হুজারের মতো কর্মীরা মনে করছেন, হাজিরা খাতায় আলাদা কলাম থাকায় এখন আর ছুটির কারণ নিয়ে সহকর্মীদের ফিসফাস শুনতে হবে না। এটি সামাজিক জড়তা কাটাতে সাহায্য করবে।

শুধু সরকারি দফতর নয়, এই পদক্ষেপের আদলে আইটি সেক্টর এবং গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলিতেও নিয়ম তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কর্নাটকের এই পদক্ষেপ কর্মক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাল, যেখানে নারীর শারীরিক অবস্থাকে দুর্বলতা নয়, বরং তা স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মেন্সট্রুয়েশন লিভ এখন আর কোনও গোপন সমঝোতা নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক অধিকার।

–

–
–
–
–
–


