মাঠ থেকে দেশের শীর্ষ আদালত। রাজ্যের একজন বাসিন্দারও ন্যায্য ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেবে না বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেভাবে বিহার নির্বাচনের আগে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission), সেই পথ যে বাংলার ক্ষেত্রে কোনওভাবেই খুলে দেওয়া হবে না, বারবার স্পষ্ট করে দিচ্ছে বাংলার শাসকদল। একদিকে যখন বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের মানুষের পক্ষে সওয়াল করছেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, সেই দিনই আবার নতুন ইস্যুতে কলকাতায় সিইও দফতরে (CEO office) অভিযোগ পেশ করল তৃণমূলের ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল (TMC delegation)।

নতুন করে হয়রানির মুখে রাজ্যের আরও ৫ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ। বুধবার কমিশনের গিয়ে অভিযোগ জানান সাংসদ পার্থ ভৌমিক, রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পুলক রায় ও স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তাঁরা তুলে ধরেন রাজ্যের ৫ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষের নাম খসড়া তালিকা (draft list) প্রকাশের পরে ম্যাপড ভোটার হিসাবে চিহ্নিত ছিলেন। আচমকা তাঁদের আনম্যাপড (unmapped) করে দেওয়া হয়েছে।

সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে মন্ত্রী শশী পাঁজা তুলে ধরেন, ৫ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ যারা ভেরিফায়েড (verified)। তাঁদের রিভেরিফাই (reverify) করা হচ্ছে। করছে কে? সেই মাইক্রো অবজার্ভার। কী উদ্দেশ্যে এই মাইক্রো অবজার্ভার (Micro Observer)? বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে সেখান থেকে তাঁরা আসছে। তা আজ পরিষ্কার মহামান্য আদালতে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়টি তুলেছেন। আমরা আজ সিইও-কে বললাম এই রিভেরিফিকেশন বন্ধ করুন। সিইও তখন বিষয়টি বিচার বিভাগের অধীন বলে দাবি করেন।

সেই সঙ্গে তৃণমূলের তরফে তুলে ধরা হয়, এক অতি আশ্চর্য হয়রানি। তৃণমূল প্রতিনিধিদলের তরফে জানানো হয়, এই সমস্যার জন্য কোনও ভোটার দায়ী নয়। শুনানিতে ডাকা হয়েছে। শুনানি হল। ফিরে এলাম। খবর দেওয়া হল শুনানি হয়নি। হিয়ারিং ডেট ল্যাপসড। কার দোষে? সশরীরে গেছি। ছবি তোলা হয়েছে। লিখিত দেওয়া হয়েছে। তারপরেও বলছে হিয়ারিং ডেট ল্যাপসড। এই সম্পূর্ণটা কমিশনের গাফিলতি বা কমিশের অপ্রস্তুতি। তাঁরা প্রস্তুতই ছিলেন না এইএসআইআর করার জন্য। তাতে প্রায় ৫৫ লক্ষ মানুষ হয়রানির শিকার।

আরও পড়ুন : নাম বিভ্রাট! বৈধ ভোটারের হয়রানি মেনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ প্রধান বিচারপতির

তৃণমূলের তরফ থেকে তুলে ধরা হয়, ১৪ তারিখ পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা (final voter list) প্রকাশিত হবে। শুনানি শেষ করতে চারদিন। মাত্র ৬৩ লক্ষ শুনানি হয়েছে। এখনও বাকি ৫ কোটি মানুষের শুনানি করতে। কীভাবে সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে, প্রশ্ন তুলে সিইও দফতরে স্মারকলিপি পেশ করেন তৃণমূল প্রতিনিধিদল।

–

–

–

–


