সামজিক সুরক্ষা প্রকল্পে এবার ডেলিভারি বয়-অ্যাপ ক্যাব চালকরাও! বাজেটে গিগ কর্মীদের বড় সুরক্ষা

Date:

Share post:

রোদ-জল মাথায় নিয়ে যারা দিনরাত শহরজুড়ে খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পৌঁছে দেন গিগ কর্মীরা। ক্যাব বা বাইকে  নিত্যদিনের যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেন, সেই গিগ ওয়ার্কারদের (Gig Workers) জন্য এবার বড় রক্ষাকবচ নিয়ে এল রাজ্য সরকার। অন্তর্বর্তী বাজেটে (State Budget) ঘোষণা করা হয়েছে যে, এখন থেকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের (Swasthyasathi) মতো সামাজিক সুরক্ষায় সমস্ত সুবিধা পাবেন ডেলিভারি বয় (Delivery Boy) এবং অ্যাপ-ক্যাব চালকরাও (App- Cab driver)।

বৃহস্পতিবারের রাজ্য বাজেটে (Budget) সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Finance Minister Chandrima Bhattacharya)। বিশেষ করে নজর দেওয়া হয়েছে গিগ ওয়ার্কার বা অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের উপর।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট জানান, গিগ ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য কোনো স্থায়ী সামাজিক সুরক্ষা ছিল না। তাই তাঁদের জীবনকে নিরাপদ করতেই এই উদ্যোগ।

অ্যাপ-ক্যাব বা বাইক চালক (App-cab/ bike driver), ফুড ডেলিভারি (Food Delivery) কর্মীরা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের (Swasthyasathi ) আওতায় বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। এই সুবিধার আওতায় থাকবেন কর্মীদের পরিবারের সদস্যরাও। এমনকী কাজ করার সময় কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে বা কর্মীর মৃত্যু হলে, তাঁর পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন বিশেষ অর্থ সাহায্য করা হবে।

সরকার খুব শীঘ্রই একটি পোর্টাল (Portal) চালু করতে চলেছে। গিগ ওয়ার্কারদের প্রথমে ওই পোর্টালে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গিগ ওয়ার্কারদের (Gig Workers) জন্য একটা সার্ভে করা হবে যাতে কেউ এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।” আবেদনের পর সরকারি স্তরে একটি সার্ভে (Survey) বা যাচাইকরণ (Verification) প্রক্রিয়া চলবে। ভেরিফিকেশন সফল হলেই কর্মীরা স্বাস্থ্যসাথী ও সামাজিক সুরক্ষার যাবতীয় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

ভোটের আগের এই অন্তর্বর্তী বাজেট  ছিল রীতিমতো রাজ্য সরকারের ‘কল্পতরু’ বাজেট। গিগ ওয়ার্কারদের পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি এবং বেকার যুবকদের জন্য নতুন প্রকল্পের ঘোষণাও নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ অসংগঠিত কর্মী সামাজিক সুরক্ষার আওতায় চলে এলেন।

এর পাশাপাশি কর্মশ্রী, বর্তমানে মহাত্মাশ্রী নামে পরিচিত, প্রকল্পে জব কার্ডধারীদের বছরে ন্যূনতম ১০০ দিনের কাজ নিশ্চিত করতে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
আরও খবরবাংলার মহিলাদের হাসি চওড়া, বাড়ল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আর্থিক সাহায্য

ক্ষেতমজুরদের জন্য বছরে ৪০০০ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার নতুন প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা রবি ও খরিফ মৌসুমে দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের সরকারি সেচ ব্যবস্থার ফি সম্পূর্ণ মকুবের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

spot_img

Related articles

অন্তর্বর্তী বাজেট: ঋণের বোঝা কমিয়ে উন্নয়নের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

বিধানসভায় আগামী অর্থবর্ষের প্রথম চার মাসের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করলেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattachariya)। বাজেট...

টিকিটের চাহিদা নেই, উন্মাদনা উধাও, বিশ্বকাপের আগে অচেনা ইডেন

একদিন পর শুরু আইসিসির মেগা ইভেন্ট। কিন্তু টি২০ বিশ্বকাপ (T20 World cup) শুরুর আগে এ কোন ইডেন(Eden)? ১৯৮৭...

এসআইআর জট বিধানসভায়! সভার রুলিংয়ে আটকে গেল আলোচনা

বিধানসভায় এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে সরকার পক্ষের আনা আলোচনার প্রস্তাব ঘিরে তৈরি হল আইনি জটিলতা। বৃহস্পতিবার...

“বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা!” রাজ্যসভায় মোদির ভাষণের পাল্টা ধুয়ে দিল তৃণমূল 

সুপ্রিম কোর্টে বুধবার সওয়ালে ঝড় তোলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কোর্ট চত্বরে মমতাকে নিয়ে তুঙ্গে ওঠে...