বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে কী লেখা হবে। এখনও তা নিশ্চিত করতে হিমশিম বঙ্গ বিজেপি। অথচ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary) রাজ্য়ের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নানা প্রতিশ্রুতি ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। কোথায় গিয়ে কী প্রতিশ্রুতি তিনি দিচ্ছেন, তার হিসাব পেশ করতেও ব্যর্থ বিরোধী দলনেতা (LoP)। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বাংলায় চাকরির প্রতিশ্রুতি তিনি আগেও দিয়েছেন। এবার একেবারে সময় বেঁধে ছয় মাসে ১০ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি (employment guarantee) দিয়ে ফেললেন শুভেন্দু। পাল্টা নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) চাকরির প্রতিশ্রুতি ও বিজেপি শাসিত রাজ্যে চাকরির পরিসংখ্যান তুলে শুভেন্দুকে প্রশ্ন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের।

গত কয়েক মাসে বারবার বীরভূমে গিয়ে আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় তিনি নিজেই স্বীকার করে নেন, কীভাবে বিজেপির কেন্দ্রের সরকার বাংলার প্রতি ইচ্ছাকৃত বঞ্চনা চালাচ্ছে। আর তাতে ইন্ধন যে বঙ্গ বিজেপির নেতারাই দিচ্ছেন তাও স্পষ্ট করে দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, বাংলায় বিজেপির সরকার হলে বকেয়া (Bengal dues) টাকাও পেয়ে যাবে বাংলা।

আরও একধাপ এগিয়ে রামপুরহাটের সভা থেকে শুভেন্দু দাবি করেন, রাজ্যের সরকার বাড়ি তৈরির জন্য যে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেয় তা যথেষ্ট নয়। বিজেপির সরকার আরও বেশি দেবে। অথচ কেন্দ্রের সরকার যে আবাস যোজনা থেকে বাংলাকে বঞ্চিত করে রেখেছে ২০২১ সালের পর থেকে, তা উল্লেখ করলেন না শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা যে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, তা প্রমাণ করেই আবাসে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করে বসলেন বিরোধী দলনেতা।

এর পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়ে দাবি করে বসেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে ২ কোটি ১৫ লক্ষ মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে। যদিও তিনি ব্যাখ্যা করেননি কীভাবে হাসি ফুটবে এই বাংলার মানুষদের মুখে। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিজেপির (BJP) জমানায় বাংলায় ছয় মাসে ১০ লক্ষ বেকার যুবক যুবতীর কর্মসংস্থান (employment) হবে।

শুভেন্দুর এই দাবির পরেই তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, শুভেন্দু অধিকারী চাকরি নিয়ে কোনও কথা বলার আগে ২০১৪ সালে বছরে দু কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি (employment guarantee) দিয়েছিল বিজেপি, নরেন্দ্র। এখন ২০১৪ থেকে ২৬ । ১২ বছর। তাহলে ১২ দুগুণে ২৪ কোটি চাকরি (employment) কোথায় গেল? এইটা ওনারা দেখিয়ে দিন।

আরও পড়ুন : ‘নরম মাটি’তে মঞ্চ: গোসাবায় দিলীপের সভা শুরুর আগেই ভাঙল মঞ্চ

বিজেপির প্রতিশ্রুতি যে আদতে ভাঁওতাবাজি, তা কেন্দ্রের মোদি সরকার থেকে প্রতিটি বিজেপি (BJP) শাসিত রাজ্যে প্রমাণিত। এই দাবি করেন কুণাল আরও বলেন, মাঝখানে তো আরও কারখানা বন্ধ হয়েছে। দেশের শিল্প ছারখার হয়েছে। মানুষের কর্মচ্যুতি হয়েছে। সংখ্যাটা আরও বেড়ে গিয়েছে। সারাদেশের বেকারত্বের যা হাল তার মধ্যে চাকাটা একটু উল্টো পশ্চিমবঙ্গে। সেখানে কর্মসংস্থান (employment) বাড়ছে। ফলে শুভেন্দু অধিকারীরা যা যা দাবি করবেন – তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের আর বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির কর্মসংস্থানের হিসাব দিন।

–

–

–

