কেন্দ্রে ক্ষমতায় বিজেপি। তাই বলেই কী আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সিনেমাকে হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হয়? কার্যত সেই ক্ষমতাই এবার দেখানো শুরু করল বজরং দল। এর আগে যে সিনেমায় তাঁদের আপত্তি তার বিরোধিতায় সিনেমা হলে যথেচ্ছ ভাঙচুর করতেও পিছপা হয়নি বজরং দলের (Bajrang Dal) সদস্যরা। তবে ওয়েব প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব না বুঝেই প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া শুরু। নেটফ্লিক্সের সিনেমার পরিচালক ও অভিনেতা তাঁদের সিরিজের নামের ব্যাখ্যা দিলেও এবার নাম বদলের হুঁশিয়ারি। তা না হলে খারাপ রূপ দেখানোর হুমকি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের।

সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের প্রযোজনায় তৈরি হওয়া সিনেমা ‘ঘুষখোর পণ্ডত’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে প্রতিবাদে সরব বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাঁদের দাবি এই সিনেমায় একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে আঘাত করা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্যমূলক অপদস্ত করতে তার সাধু, সন্ত এমনকি ঈশ্বরকেও অপমান করা হয়েছে। প্রতিবাদে অহিংস পথ নিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উত্তরপ্রদেশের সদস্যরা। ভাবটা এমন যেন ‘পণ্ডত’ শব্দতে কোনও পণ্ডিতকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের সবথেকে বড় পণ্ডিত হিসাবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ যেখানে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে তুলে ধরে, সেখানে এই নামে তাঁরা যোগীর অপমান হিসাবেই গ্রহণ করেছেন।

পাল্টা পরিচালক নীরজ পাণ্ডে ও মুখ্য অভিনেতা মনোজ বাজপায়ি দাবি করেছেন, এই সিনেমা কোনওভাবে কোনও সম্প্রদায়কে আঘাত করার জন্য তৈরি হয়নি। এখানে কোনও সাম্প্রদায়িক আঘাতের অংশও নেই বলে দাবি করা হয়। সেই সঙ্গে জানানো হয়, নামের মধ্যে দিয়ে কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে আঘাত করা হয়নি।

আরও পড়ুন : অসম মুখ্যমন্ত্রী গুলি করলেন সংখ্যালঘুদের! কোথায় গেল মোদির UAPA,প্রশ্ন বিরোধীদের

আদতে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এতটুকু মাথা নত করলে যে তারা আরও মাথায় চড়ে বসে তার প্রমাণও এক্ষেত্রে রাখল বজরং দল। সিনেমার প্রস্তুতকারকদের তরফ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র শ্রীরাজ নায়ার দাবি করেন, সরকারের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি। যদি এই সিনেমার কাহিনী ও নাম (title) বদল না করা হয় তবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) ও বজরং দল (Bajrang Dal) তাঁদের খারাপ চেহারা দেখাবে। এখুনি নাম বদল করতে হবে।

–

–

–

–

–
