নদিয়ার(Nadia) কোতোয়ালি(Kotowali) থানা এলাকায় চক্ষুদানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মৃত মায়ের চোখ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এক সমাজকর্মী ও স্কুলশিক্ষককে। যদিও ধৃত শিক্ষক আমির চাঁদ শেখের (Amir Chand Sheikh) দাবি, চক্ষুদানের(Eye Donation) সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বৈধ নথি ও মেডিক্যাল কলেজের(Medical College) কাগজপত্র তিনি পুলিশের(Police) কাছে জমা দিয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, আমির চাঁদ শেখ তাঁর প্রয়াত মায়ের চোখ বিক্রি করে দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—যখন চক্ষুদানের সমস্ত নিয়ম মেনে করা হয়েছে এবং তার লিখিত প্রমাণ রয়েছে, তখন শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে কীভাবে একজন শিক্ষককে গ্রেফতার(Arrest) করা হল?

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন আমির চাঁদ শেখ। তাঁর বক্তব্য, “আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। পাড়ার কয়েকজন মিলে এই ষড়যন্ত্র করেছে। পুরনো শত্রুতার জেরে আমার চাকরি ও সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষকের পরিবারের সঙ্গে গ্রামের একাংশের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিবাদ চলছিল। সেই আবহেই সম্প্রতি আমির চাঁদ শেখের মায়ের মৃত্যু হয়। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়ম মেনে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে চক্ষুদান করা হয়।

ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, দান করা চক্ষু সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর বৈধ রসিদও রয়েছে।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রঞ্জিত কুমার দাস(Ranjit Kumar Das) বলেন, “চক্ষুদানের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এই ঘটনায় সেই নিয়মই মানা হয়েছে। এখানে চোখ বিক্রির কোনও প্রশ্নই নেই।”

চিকিৎসক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চক্ষুদান অত্যন্ত মানবিক ও মহৎ একটি কাজ। কিন্তু সচেতনতার অভাবে অনেক সময় এই ধরনের মহৎ উদ্যোগকেও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এর ফলে সমাজে ভুল বার্তা যায়।”

আরও পড়ুন – রাজনীতি করবেন না: শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী থাকার বিরোধিতা করায় BJP-পন্থী সংগঠনকে ভর্ৎসনা শীর্ষ আদালতের

_

_
_

