বাংলার প্রতি বঞ্চনা থেকে গোটা দেশকে ঋণের দায় জর্জরিত করা। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় বাজেটে নির্মলা সীতারমণ যেভাবে গোটা দেশের মানুষকে হতাশ করেছেন, তার স্পষ্ট ছবি মঙ্গলবার লোকসভায় বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরেছেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। নিজের বক্তৃতার (budget speech) সময়েই অর্থমন্ত্রীকে এইসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু বুধবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কার্যত মিথ্যার আশ্রয় ছাড়া আর কিছুই দিতে পারলেন না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman)। উত্তর মিলল না বাংলা বঞ্চনা নিয়ে কেন্দ্র আদৌ কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা তার।

অভিষেক প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেভাবে নির্বাচনমুখী যে কোনও রাজ্য কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে কিছু প্রত্যাশা করে, সেভাবেই বাংলাও কিছু প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ৮৫ মিনিটের বাজেট বক্তৃতায় বাংলার নামই নেননি নির্মলা। অভিষেকের এই বাংলা বঞ্চনার উত্তর দিতে গিয়ে নির্মলা সীতারমণ ব্যাখ্যা করেন, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের (MSME) ২০০ টি ক্লাস্টার (cluster) তৈরি করবে কেন্দ্র সরকার। তার ভাগ পেতে পারে লুধিয়ানা থেকে বাংলার যে কোনও শহর। অর্থাৎ আদৌ যে বাংলার শিল্পের উন্নতিতে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের, নিজেই স্পষ্ট করলেন অর্থমন্ত্রী (Finance Minister)।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পেশ করা বাজেটে যেভাবে সাধারণ মানুষের উপর করের বোঝা কমানো নিয়ে কোনও ইঙ্গিত ছিল না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি করেছিলেন দেশের মানুষকে একটি জিনিসের জন্য তিনবার কর দিতে হয়। এমনকি সদ্যোজাত শিশুর ডায়াপার থেকে মৃত ব্যক্তির জন্য জ্বালানো ধূপেও রয়েছে জিএসটি। জবাব দিতে গিয়ে কার্যত মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে। তিনি দাবি করেন, বাংলায় মৃত্যুর পরেও জিএসটি লাগু হয় এটা খুবই দুঃখের বিষয়। তিনি ধূপকাঠির (incense stick) উপর জিএসটি-কে (GST) ইঙ্গিত করেন। অথচ জিএসটি নীতির পরিবর্তনের পরেও ধূপকাঠিতে যে ৫ শতাংশ জিএসটি (GST) লাগু রয়েছে, তা বোধহয় ভুলে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী (Finance Minister)।

বাজেট বক্তৃতায় বাংলার শিকে ছেঁড়ার জন্য একটি মাত্র প্রকল্পের নাম নিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। সেটি ছিল ডানকুনির ফ্রেট করিডোর (freight corridor)। আদতে বহু আগে একাধিক বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে এই প্রকল্প, তা নিজের বক্তৃতায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন সাংসদ অভিষেক। অভিষেকের এই দাবিকে জবাব দিতে গিয়ে আরও একবার মিথ্যার আশ্রয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেল মন্ত্রিত্বের সময় লুধিয়ানা থেকে কলকাতা ভায়া ডানকুনি (Dankuni) রেলপথ ঘোষিত হয়েছিল। সেই রেলপথেরই সম্প্রসারণ করে সুরাট পর্যন্ত যে টেনে নিয়ে গিয়েছেন, তা এদিন শিকার করলেন না অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

আরও পড়ুন : রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আটকে পাওনা: বাজেটে বাংলার বঞ্চনা নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধনা অভিষেকের

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাজেট বক্তৃতার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল বাংলা বঞ্চনার অভিযোগ। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রাখার অভিযোগ। বুধবার জবাবী ভাষণ দিতে উঠে তা নিয়ে একটি কথাও বললেন না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। উল্টে বিজেপির সংস্কৃতির ধারা বজায় রেখে বাংলার নামে কুৎসা করতে আইন শৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে বক্তৃতা দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

–

–

–

–


