পর্দার সামনে যাঁর হাসিতে এক সময় মেতে উঠত গোটা দেশ, গত কয়েক দিন ধরে সেই রাজপাল যাদবের ঠিকানা হয়েছে তিহার জেলের অন্ধকার কুঠুরি। ২০১০ সালে নিজের ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ তৈরি করতে গিয়ে যে ঋণের জালে তিনি জড়িয়েছিলেন, সুদে-আসলে তা এখন প্রায় ৯ কোটি টাকার পাহাড়। সেই পাওনা মেটাতে না পেরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রীঘরে যেতে হয়েছে এই কৌতুক অভিনেতাকে। তবে বিপদের দিনে রাজপালকে একা ছাড়ল না বলিউড। প্রিয় সহকর্মীকে মুক্ত করতে কার্যত একজোট হয়েছে মায়ানগরী।

রাজপালের এই দুর্দিনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের ডাকসাইটে তারকারা। সোনু সুদের পর এবার তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন সলমন খান ও অজয় দেবগন। অভিনেতার ম্যানেজার গোল্ডি জানিয়েছেন, রাজপালকে উদ্ধার করতে সলমন-অজয়ের পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান, বরুণ ধাওয়ান এবং রতন জৈনও। তবে কয়েক কোটি টাকার লেনদেনে আইনি প্রক্রিয়া ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার বলেই রাজপালকে কয়েকটা দিন জেল খাটতে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, রাজপালের ঋণের বোঝা কমাতে রীতিমতো টাকার অঙ্ক বেঁধে পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। সংগীত পরিচালক রাও ইন্দরজিৎ যাদব ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তেজ প্রতাপ যাদব দেবেন ১১ লক্ষ টাকা। এমনকি বিতর্কিত অভিনেতা কেআরকে-ও ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, বাকি অর্থের একটি বড় অংশ সলমন ও অজয় দেবগনরা ব্যক্তিগত ভাবে সামাল দিচ্ছেন। ইন্ডাস্ট্রির এই অভূতপূর্ব আন্তরিকতা দেখে আপ্লুত রাজপালের পরিবার।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামিকাল অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি জেলের বাইরে আসতে পারেন অভিনেতা। ইতিমধ্যেই তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়েছে। গোল্ডির আশা, আদালত আগামিকালই জামিন মঞ্জুর করবে এবং রাজপাল আবার তাঁর চেনা ছন্দে শুটিং ফ্লোরে ফিরবেন। বিপদে পড়লে বলিউড যে আজও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে জানে, রাজপাল যাদবই তার সাম্প্রতিক বড় উদাহরণ হয়ে রইলেন। এখন শুধু অপেক্ষা আদালতের চূড়ান্ত রায়ের।

আরও পড়ুন – মেলা প্রাঙ্গণের মুকুটে নতুন পালক: আসছে আন্তর্জাতিক মানের ফুড ও গেস্ট হাব

_

_

_

_

_
_


