বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। শিক্ষাক্ষেত্রে বড় বদল ঘটিয়ে এই প্রথম সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে চলেছে ছাত্রছাত্রীরা। তবে পরীক্ষার প্রথম দিনেই নিরাপত্তার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করতে রাজি নয় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন কোনো পরীক্ষার্থী হিংসাত্মক আচরণ করলে বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে তাঁর পরীক্ষা তৎক্ষণাৎ বাতিল করা হবে। এমনকি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ডও।

এবারের পরীক্ষায় কড়া নজরদারির জন্য গুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে সংসদ। জানানো হয়েছে, কোনও পরীক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট পাওয়া গেলে তাঁর সেই দিনের পরীক্ষা বাতিল হবে। কেবলমাত্র পুরনো সিলেবাসের পরীক্ষার্থীরাই সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। কিন্তু সবচেয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে পরীক্ষার্থীদের আচরণের ওপর। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও পরীক্ষার্থী যদি শিক্ষাকর্মী বা শিক্ষকদের ওপর শারীরিক আক্রমণ করে কিংবা পরীক্ষা কেন্দ্রে ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে, তবে তাঁর চলতি বছরের সব কটি পরীক্ষাই বাতিল করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপ এবং জরিমানাও করা হতে পারে।

নতুন সেমিস্টার ব্যবস্থায় এত বড় পরিসরে পরীক্ষা নেওয়া সংসদের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ১৫ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলবে। এবছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৮১১ জন। তার মধ্যে নতুন সিলেবাসের চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষার্থী রয়েছেন ৬ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৬৪ জন। পাশাপাশি তৃতীয় সেমিস্টারের সাপ্লিমেন্টরি পরীক্ষা দিচ্ছেন ৫৮ হাজার ৪৫২ জন। অন্যদিকে, পুরনো সিলেবাস অনুযায়ী চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা দেবেন ১৪ হাজার ৪৯৪ জন ছাত্রছাত্রী।

সংসদ সভাপতি আগেই জানিয়েছেন, সেমিস্টার পদ্ধতির এই নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব রকম প্রশাসনিক প্রস্তুতি সারা। নজরদারির জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে বিশেষ পর্যবেক্ষক দল থাকছে। গোলমাল করলেই কড়া শাস্তির বার্তা দিয়ে সংসদ বুঝিয়ে দিয়েছে, মেধা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।

আরও পড়ুন- ধর্মঘটের দিন রাজ্য সচল রাখতে কড়া নবান্ন, গরহাজির হলে কাটা যাবে বেতন ও কর্মদিবস

_

_

_

_

_
_


