Tuesday, June 16, 2026

গোপন চ্যাটই হবে ডিজিটাল প্রমাণ! ডিভোর্স মামলায় বড় রায় হাইকোর্টের

Date:

Share post:

এখন থেকে ডিভোর্স বা পারিবারিক মামলায় কারোর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট হিস্ট্রি (Whatsapp chat history) বা কল রেকর্ড (Call record) গুরুত্বপূর্ণ আইনি অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে ডিজিটাল তথ্য লুকানো এখন আরও কঠিন হয়ে পড়ল। ছত্তীসগড় হাইকোর্টের (Chattisgarh High Court) সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণ বলছে, ন্যায়ের স্বার্থে প্রাইভেসি (Privacy) বা গোপনীয়তা সবসময় কারোর ঢাল হতে পারে না।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। বিলাসপুরে এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ মামলাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই পৌঁছায় হাইকোর্টে। স্বামী দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীর কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট (Whatsapp chat) এবং ফোন কল রেকর্ড মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। পালটা স্ত্রী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জানান, তাঁর অনুমতি ছাড়া এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া ‘গোপনীয়তার অধিকার’ (Right to Privacy) সরাসরি লঙ্ঘন করে।

কিন্তু হাইকোর্ট স্ত্রীর এই আপত্তিতে সায় দেয়নি। বরং পারিবারিক আদালতের আগের সিদ্ধান্তকেই বহাল রেখেছে। বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমাদের সংবিধানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার থাকলেও তা কিন্তু ‘অ্যাবসোলিউট’ বা সর্বোচ্চ নয়।

আদালতের মতে, মামলার নেপথ্যে সত্য কারণ এবং সঠিক বিচারের প্রয়োজনে যদি ডিজিটাল তথ্যের প্রয়োজন হয়, তবে তাকে অস্বীকার করা চলে না। ১৯৮৪ সালের ফ্যামিলি কোর্টস অ্যাক্টের (Family Courts Act) ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত যে কোনও তথ্যকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, যদি তা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা সম্ভব।

আধুনিক যুগে স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন বা ঝগড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হোয়াটসঅ্যাপ বা ফোনের মাধ্যমে হয়। তাই আদালত মনে করে,  এই ডিজিটাল যোগাযোগগুলো মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে। যার জন্য বিচারকদের আরও নমনীয় ও বাস্তবসম্মত হতে হবে।
আরও খবরগাড়ির কাচ তুলে নাবালিকাকে গণধর্ষণ! ভিডিও তুলে লাগাতার ব্ল্যাকমেল ভোপালে 

তবে অন্যদিকে, সব রেকর্ড দিলেই যে তা প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য হবে, তা কিন্তু নয়। আদালত জানিয়েছে, ওই ইলেকট্রনিক ডেটা কতটা প্রাসঙ্গিক, তথ্যগুলো কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তার সত্যতা কতটুকু—তা অবশ্যই চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে।

Related articles

কলেজে তোলাবাজি রুখতে ‘স্যাঁটা গরম’ করার হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর! কোথা থেকে এলো এই শব্দ?

কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও টাকার খেলা রুখতে প্রকাশ্যেই ‘স্যাঁটা গরম’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের নতুন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ...

ত্রাণের আড়ালে আপত্তিকর সামগ্রী? অনন্যার কার্যালয় ভাঙচুর করে চক্রান্তের অভিযোগ বিজেপির

১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয় ঘিরে বিতর্ক। কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়টি আদৌ সাধারণ মানুষের কাজের জন্য নাকি অন্য কোনও...

পশ্চিমবঙ্গ দিবসে স্কুলগুলোকে ছবি পাঠানোর ফতোয়া, নজরদারির অভিযোগে সরব শিক্ষক মহল

শিক্ষাঙ্গনে এবার নয়া নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হলো জোর বিতর্ক। রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে...

নিয়োগ মামলা: ইডি দফতরে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্তে সহযোগিতার বার্তা অভিষেকের

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সল্টলেকের সিজিও...