বিধানসভা নির্বাচনের আগে গ্রামীণ সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নে বড়সড় কর্মসূচি নিতে চলেছে রাজ্য সরকার (West Bengal Govt.)। আগামী পাঁচ বছরে নতুন করে ৪৬ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ এবং আরও ১০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা মেরামতির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাই জনমত গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় আকারে কাজ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মধ্যেও পথশ্রী প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ ২০ হাজার কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরি হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে পথশ্রী–রাস্তাশ্রী প্রকল্পে রাজ্যের খরচ হয়েছে ১,১৯২ কোটি টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, পথশ্রী–রাস্তাশ্রী প্রকল্প গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের একটি রূপান্তরমূলক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে গ্রামের স্কুল, কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কিষান মণ্ডি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। আরও পড়ুন: পার্লামেন্ট সদস্য খুনে ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ শ্রীলঙ্কায়

২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে পথশ্রী–রাস্তাশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের বাকি কাজ শেষ করতে আনুমানিক ৯,৪৮৮ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাজেটে শহরে একাধিক উড়ালপুল নির্মাণের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
গত অর্থবর্ষে ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল পশ্চিমবঙ্গ। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে পথশ্রী–রাস্তাশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পর্যায়ে গ্রামীণ ও শহুরে মিলিয়ে মোট ২০,০৩০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের ঘোষণা করা হয়। প্রায় ৮,৪৮৭.৮৩ কোটি টাকার এই প্রকল্প সম্পূর্ণ রাজ্যের অর্থেই বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এই কর্মসূচির ফলে ৩৫ হাজার গ্রামের বাসিন্দা এবং ১২৮টি পুরসভা এলাকার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে প্রশাসনের দাবি। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ে জব কার্ডধারীদের মাধ্যমে ১৫ কোটিরও বেশি কর্মদিবস সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

–

–

–

–

–

–


