নারী উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারের ঢাক বাজানো বিজেপি যে আদতে গোটা দেশকে আরও অন্ধকারের পথে ঠেলে দিচ্ছে, ওড়িশা(Odisha) যেন তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। যে ওড়িশায়(Odisha) সম্মান বাঁচাতে কলেজ পড়ুয়াকে প্রকাশ্যে নিজেকে দাহ করে শেষ করে দিতে হয়, সেখানে যে এক দলিত কন্যার হাতে উচ্চবর্ণের পরিবার নিজেদের সন্তানদের খেতে দেবেন না এমনটা যেন স্বতঃসিদ্ধ। দলিত কন্যা অঙ্গনওয়াড়ির(anganwadi )সহায়ক ও রাঁধুনি হিসাবে নিযুক্ত হওয়ায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে বন্ধ করে দিয়েছে ওড়িশার (Odisha)ঊপকূল লাগোয়া নুয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা। বিজেপির মোহন মাঝি শাসিত ওড়িশায় স্থানীয় উচ্চবর্ণের মানুষের ভয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রই বন্ধ করে দিয়েছেন বাড়ির মালিক।

নুয়াগাঁও গ্রামের প্রথম স্নাতক শর্মিষ্ঠা। নিজের যোগ্যতায় ও মেধার জোরে সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল, সংসারের হাল ধরবেন আর নিজের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নপূরণ করবেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ না হলেও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের হেল্পার-কাম-কুক হিসেবে নিয়োগপত্র পান তিনি। তবে গত নভেম্বর মাসে সেই খুশির খবর গ্রামে পৌঁছাতেই শুরু হয় বিভীষিকা। অভিযোগ, গ্রামের তথাকথিত ‘উচ্চবর্ণের’ প্রভাবশালীরা শর্মিষ্ঠাকে ঘিরে ধরে জাত তুলে অপমান করেন। তাঁদের সাফ কথা, “নিচু জাতের হাতের রান্না খেলে দেবতারা রুষ্ট হবেন।” সেই থেকে গত চার মাস ধরে একঘরে করে রাখা হয়েছে শর্মিষ্ঠা ও তাঁর পরিবারকে।

শর্মিষ্ঠা কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকে গ্রামের ৪২ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৪০ জনই আসা বন্ধ করে দিয়েছে। হাতেগোনা দুই-তিনজন দলিত শিশু ছাড়া আর কেউ সেখানে আসে না। এমনকি যে প্রসূতি মায়েরা ও তিন বছরের কম বয়সী শিশুরা রেশন পেতেন, তাঁরাও আর ‘অস্পৃশ্যতার’ ভয়ে আসছেন না। মাঝখান থেকে বিপদে পড়েছে শিশুগুলো। বাধ্য হয়ে আগে যে উচ্চবর্ণের কর্মীর বাড়ি থেকে কেন্দ্রটি চলত, চাপের মুখে তিনিও দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন।

শনিবার জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। এমনকি ভরসা জোগাতে তাঁরা শর্মিষ্ঠার হাতের রান্না করা খাবারও খান। হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যদি এই সামাজিক বয়কট না ওঠে, তবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও গ্রামবাসীরা এখনও নিজেদের গোঁড়ামিতেই অনড়। তাঁদের দাবি, ‘সামাজিক নিয়ম’ ভাঙা সম্ভব নয়।

–

–

–

–



