সম্প্রতি রবীন্দ্র সদনে (Rabindra Sadan) অনুষ্ঠিত হল ‘সহজিয়া উৎসব'(Sahajiya Utsav 2026), যেখানে সব ভেদাভেদ মুছে সুরের টানে এক হয়ে গেল শহর আর গ্রাম। এবারের উৎসবে বিশেষ সম্মানে ভূষিত হলেন দুই কিংবদন্তি—একদিকে হ্যারি বেলাফন্টের সেই অমর সুর ‘জামাইকান ফেয়ারওয়েল’ এর বিখ্যাত বাংলা অনুবাদ করে বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া গীতিকার-গায়ক, ‘নগর বাউল’ রঞ্জন প্রসাদ, আর অন্যদিকে ফকিরি গানের সম্রাট কিংবদন্তিসম মনসুর ফকির।

এদিন, রবীন্দ্র সদনের প্রেক্ষাগৃহে গৌর বন্দনার মাধ্যমে উৎসবের মেজাজ তৈরি করে দেন মনসুর ফকির। এরপরই মঞ্চে আসেন গৌতমদাস বাউল, যাঁর কণ্ঠে ‘মুর্শিদ খোলো খোলো দোর’ গানটি অদ্ভুত এক আবহ তৈরি করে। বর্তমানের অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে এই মঞ্চ এক অন্যরকম বার্তা দিল—যেখানে ধর্মের বাধা পেরিয়ে একজন বাউল গায় নবীর গান, আর এক ফকির শ্রদ্ধা জানান শ্রীচৈতন্যকে। আরও পড়ুন: কবে খুলছে কেদারনাথের দরজা, ঘোষণা চারধামের সময়সূচি

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিল্পীদের বৈচিত্র। একদিকে যেমন ক্যাকটাস ব্যান্ডের সিধু শোনালেন ‘কিছুদিন মনে মনে’, তেমনই জয়তী চক্রবর্তীর গলায় লালন সাঁইয়ের ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’ শুনে দর্শকরা আরও মুগ্ধ হয়ে ওঠে। মুম্বই থেকে আসা ঋতিকা সাহানী ও পিলু বিদ্যার্থীর যুগলবন্দিতে ‘দিলো না দিলো না’ গানটি এক অন্য মাত্রা পায়। ‘প্রাণ সখী হে’ ও ‘আমার হাত বান্ধিবি’ গান গেয়ে নজর কেড়েছে খুদে শিল্পী তানি-মুনি আর হৃদিস্রোতা। প্রবীণ শিল্পী শুভেন্দু মাইতি, স্বপন বসু, রিনা দাসী থেকে শুরু করে এই প্রজন্মের গাবু বা অর্কদীপ—সবাই উপস্থিত ছিলেন এই উৎসবে।

সহজিয়ার প্রাণপুরুষ দেব চৌধুরীর নির্দেশনায় ‘সহজ সুরের পাঠশালা’র ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনা বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। তবে সবথেকে বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল মুর্শিদাবাদের কান্দি থেকে আসা অঘোরী নৃত্য। গাজন উৎসবের একটি অংশ হিসেবে এই নাচ বাংলার কিছু প্রান্তিক অঞ্চলে প্রচলিত। এটি একটি বিশেষ নাট্যধর্মী উপস্থাপনা। ‘ভবময়ীর রূপ দেখিয়া’ ও ‘একবার নাচো নাচো গো শ্যামা’ গানের তালে এই নাচ দর্শকদের এক অন্য জগতে নিয়ে যায়।

বিকেলে যখন জি-বাংলা সারেগামাপা-র নির্দেশক অভিজিৎ সেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা মঞ্চে হাজির হন, তখন এক অন্যরকম আবহের সৃষ্টি হয়। রঞ্জন প্রসাদের সম্মানে গোটা প্রেক্ষাগৃহের মানুষ একসঙ্গে গেয়ে ওঠেন—’পথের প্রান্তে ওই সুদূর গাঁয়, যেথা সময় থমকে থাকে বটের ছায়’।

রবীন্দ্র সদন চত্বরে এদিনের এই উৎসবের মূল সুরটাই ছিল মিলন—যেখানে শহুরে রকস্টার আর প্রান্তিক লোকসঙ্গীত শিল্পী একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে জীবনের গান গাইলেন।

–

–

–

–


