পার্ক সার্কাসের আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তখন চলছে ‘সামাজিক সাম্য ও সংখ্যালঘুর অধিকার’ নিয়ে আলোচনা। মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। কিন্তু হঠাৎই তাল কাটল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের উপস্থিতিতে। তিনি মঞ্চে পা রাখতেই অডিটোরিয়ামের ভেতরে শুরু হলো শোরগোল। সেলিম বক্তব্য শুরু করতে না করতেই তাঁর উপস্থিতির প্রতিবাদে কার্যত সভা ‘বয়কট’ করে বেরিয়ে গেলেন পড়ুয়াদের এক বড় অংশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে, ভরা অডিটোরিয়াম মুহূর্তেই ফাঁকা হতে শুরু করে।

এদিন ওই অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি, সামিরুল ইসলাম সহ আরও অনেকে। নওশাদের বক্তব্যের মাঝপথেই মঞ্চে হাজির হন সেলিম। আর তাতেই দানা বাঁধে অসন্তোষ। সিপিএম নেতার উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের একাংশ আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে হলের বাইরে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে গিয়ে কার্যত এদিন মুখের ওপর থাপ্পড় খেলেন সেলিম। লাল পতাকার নেতার মুখে ‘সংখ্যালঘু অধিকার’ নিয়ে ভাষণ শুনতে যে তাঁরা মোটেও ইচ্ছুক নন, আলিয়া ক্যাম্পাসের এই ছবিতেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যদিও এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন নওশাদ সিদ্দিকি। মঞ্চ থেকেই মাইক হাতে তিনি দাবি করেন, “নিউটাউনের বাস ছেড়ে দেবে বলে ছাত্ররা বেরিয়ে যাচ্ছে।” তবে নওশাদের এই ‘বাস-তত্ত্ব’ ধোপে টেকেনি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নওশাদ কিছুটা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “কেন বেরিয়ে যাচ্ছিল সঠিক জানিনা, হতে পারে বাস ধরার তাড়া ছিল। খুব ভালো আলোচনা হচ্ছিল, এটা নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়ে লাভ নেই।”

তবে ছাত্রদের একাংশের দাবি কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। বেরিয়ে যাওয়া এক পড়ুয়ার কথায়, “যাঁরা ক্ষমতার অলিন্দে থেকে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কেবল রাজনীতি করেছেন, তাঁদের উপস্থিতিতে আমরা থাকতে চাইনি। এটা আমাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নওশাদ পরিস্থিতি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, খোদ সংখ্যালঘু প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সেলিমের এই ‘বয়কট’ বামেদের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় বড়সড় ধাক্কা। আলিয়া কাণ্ডে ফের একবার প্রমাণিত হলো, পিরজাদা এবং বামেদের ‘বন্ধুত্ব’ সাধারণ পড়ুয়ারা কতটা সন্দেহের চোখে দেখছেন।

আরও পড়ুন- ‘শিল্পান্ন’-এ মুখ্যমন্ত্রী, হস্ত-কুটির শিল্পের প্রসারে উৎসাহ দিলেন কারিগরদের

_

_

_

_

_
_

