ফের একবার দলের ভিতরের অশান্তি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় রাজ্য সিপিআইএম (CPIM)। নবীন বিদ্রোহী নেতা না প্রবীন অচলায়তন – কার পক্ষে রাজ্য কমিটি। সিপিআইএমের একটা বড় অংশ সেই উত্তরের অপেক্ষা করলেও রাজ্য কমিটির (state committee) বৈঠকে মিলল না উত্তর। অসন্তোষ, অভিমানের উত্তর পেলেন না প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahaman)। এটা কী স্রেফ অবজ্ঞা, না কি অক্ষমতা মেনে নেওয়া, প্রশ্ন দলেরই অভ্যন্তরে।

দলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করার যে চিঠি রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক উর রহমান রাজ্য সম্পাদককে দিয়েছিলেন, তার জবাবে প্রকাশ্যে মহম্মদ সেলিম (Mohammed Selim) দাবি করেছিলেন রাজ্য কমিটির বৈঠকে এনিয়ে আলোচনা হবে। স্পষ্টত এই উত্তর দিতে এতটুকু স্বচ্ছন্দ ছিলেন না সেলিম।

অথচ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে (Biman Bose) দিয়ে প্রতীকের সঙ্গে যোগাযোগ করানো হল। যে রাজ্য সম্পাদককে চিঠি লিখলেন তিনি, সেই সেলিম এড়িয়ে গেলেন। রাজ্য কমিটির বৈঠকে প্রতীকের চিঠি নিয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত যে হল না, তা-ও কী রাজ্য সম্পাদকের অসম্মতির কারণে, উঠেছে প্রশ্ন।

তবে আলিমুদ্দিনের এই নীরবতায় দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেই সিপিআইএমের (CPIM) একাংশের মত। প্রতীক (Pratik Ur Rahaman) দলবিরোধী কোনও কাজ করেননি। তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন তা প্রাসঙ্গিক বলেই কী উত্তর হাতড়াচ্ছে আলিমুদ্দিন? মৌনতা সম্মতির লক্ষ্মণ কি না, উঠেছে প্রশ্ন।

সেই সঙ্গে আরেকটি সম্ভাবনার কথা সিপিআইএমের অন্দরমহলে। রাজ্য কমিটি ও জেলা কমিটিগুলি গঠনের আগেও ঠিক এভাবেই সব আলোচনা বন্ধ করে একশ্রেণীর চাপিয়ে দেওয়া মত মানতে বাধ্য করা হয়েছিল। নির্বাচনের আগে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিলে প্রার্থী খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর হতে পারে, এমন আশঙ্কাতেই আপাতত প্রসঙ্গকেই সরিয়ে রাখতে চাইছে আলিমুদ্দিন।

আরও পড়ুন : নির্বাচনের আগে গলার কাঁটা প্রতীক উরের চিঠি! কীসের সংঘাত প্রকাশ্যে আসা ঠেকাতে মাঠে প্রবীণ বাম নেতারা

প্রতীক উর অপেক্ষা করছিলেন দলের উত্তরের। সিপিআইএমকেই তিনি নিজের দল বলে দাবি করেছিলেন। সুজন চক্রবর্তীরা তাঁর অভিমান বা ভুল বোঝাবুঝি প্রশমনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সবই অতীত। তবে এবার কী করবেন প্রতীক? প্রশ্নটা শুধু সিপিআইএমের অন্দরমহলে না, ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতীকের মতো বিদ্রোহী বা কোণঠাসা হয়ে যাওয়া তরুণ সব নেতার মনেই।

–

–

–


