Saturday, March 14, 2026

AI-এর ধাক্কায় কি ৯ কোটি ছাঁটাই, নাকি ১৭ কোটি নিয়োগ? আশঙ্কার মধ্যেই আশার আলো দেখালেন নীলেকণি 

Date:

Share post:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর দাপটে বিশ্বজুড়ে কর্মহীন হওয়ার যে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাকে ঘিরে আইটি মহলে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সেই বিতর্কেই এবার নয়া মাত্রা যোগ করলেন ইনফোসিসের চেয়ারম্যান নন্দন নীলেকণি। তাঁর দাবি, এআই-এর প্রবল ঢেউয়ে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৯ কোটি মানুষের কাজ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে তৈরি হবে প্রায় ১৭ কোটি নতুন চাকরির সুযোগ। অর্থাৎ, হারানোর চেয়ে পাওয়ার পাল্লাই ভারী হতে পারে আগামীর প্রযুক্তি বাজারে।

বেঙ্গালুরুতে সম্প্রতি আয়োজিত ‘এআই ইনভেস্টর ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে নিজের বিশ্লেষণ পেশ করতে গিয়ে নীলেকণি জানান, এআই এমন ভাবে ব্যবসার খোলনলচে বদলে দিচ্ছে, যা অতীতে অন্য কোনও প্রযুক্তি করতে পারেনি। তাঁর মতে, ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপার, কিউএ টেস্টার কিংবা ব্লকচেইন ডেভেলপারের মতো নির্দিষ্ট দক্ষতার ভিত্তিতে যারা কাজ করছেন, তাঁদের অনেকেরই ভূমিকা আগামী দিনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এই ধরনের ধরাবাঁধা কাজ মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত ও নির্ভুল ভাবে করতে সক্ষম এআই।

তবে এই মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। নীলেকণির মতে, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নতুন ধরনের পেশার চাহিদা। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি এখন তাদের বাজেটের সিংহভাগ খরচ করছে পুরনো সিস্টেমকে এআই-সহযোগী করে তুলতে। যার ফলে এআই ইঞ্জিনিয়ার, এআই ফরেন্সিক অ্যানালিস্ট কিংবা ‘এজেন্টিক ওয়ার্কফ্লো আর্কিটেক্ট’-এর মতো নতুন পাঁচটি পেশা আগামী দিনে প্রযুক্তি খাতের মেরুদণ্ড হয়ে উঠবে। এর পাশাপাশি ল্যাবে বসে নয়, বরং সরাসরি হাসপাতাল বা ব্যাঙ্কের মতো সংস্থায় গিয়ে এআই সমাধান প্রয়োগ করবেন ‘ফরোয়ার্ড ডেপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’-রা। এমনকি এআই-কে তালিম দেওয়ার জন্য বিপুল তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস করতে ‘ডেটা অ্যানোটেটর’-দের চাহিদাও তুঙ্গে উঠবে।

অবশ্য নীলেকণি আশার কথা শোনালেও উদ্বেগের সুর কাটেনি অন্য বিশেষজ্ঞদের কণ্ঠে। লাটভীয় কম্পিউটার বিজ্ঞানী রোমান ইয়াম্পোলস্কি সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, ২০২৭ সালের মধ্যেই চলে আসতে পারে ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআই। তাঁর দাবি, এটি মানুষের মেধাভিত্তিক কাজগুলি এতই দক্ষতার সঙ্গে করবে যে, পাঁচ বছরের মধ্যে ৯৯ শতাংশ চিরাচরিত চাকরি বাজার থেকে মুছে যেতে পারে। একই আশঙ্কার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে মাইক্রোসফ্টের এআই প্রধান মুস্তাফা সুলেমানের গলাতেও। তাঁর মতে, কোডিং থেকে শুরু করে আইন বা হিসাবরক্ষণের মতো ‘হোয়াইট কলার’ পেশার সিংহভাগই এখন এআই-এর কব্জায়।

সব মিলিয়ে প্রযুক্তির এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এক নতুন লড়াইয়ের সামনে আইটি পেশাদাররা। একদিকে যখন ৯ কোটি চাকরি হারানোর আতঙ্ক তাড়া করছে, অন্যদিকে তখন ১৭ কোটি নতুনের হাতছানি। এই পরিস্থিতিতে কেবল কোড লেখাই নয়, বরং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়াই এখন টিকে থাকার একমাত্র পথ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আরও পড়ুন – ১৫০ জেলা বিচারক, সাত প্রাক্তন বিচারপতি: SIR-এ সোমবার থেকেই সহযোগিতা বিচার বিভাগের

_

 

_

 

_

 

_

 

_

spot_img

Related articles

হরমুজ থেকে ভারতের দিকে রওনা দিল জাহাজ: আসছে এলপিজি ট্যাঙ্ক

অবশেষে হরমুজে আটকে থাকা ভারতের জাহাজগুলিকে ছাড়ার অনুমতি দিল ইরান। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ব হরমুজে (Strait of...

সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে? কমিশনের কর্মশালায় একগুচ্ছ প্রশ্ন তৃণমূলের 

বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজার আগেই ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা আরও একবার স্পষ্ট করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার...

মোদি রাজ্যে পা রাখার আগেই ‘গো ব্যাক’! বিরাট হোর্ডিং শহরজুড়ে

বিজেপির রাজ্য নেতাদের কলঙ্কিত অত্যাচারে বিধ্বস্ত গোটা বাংলা। বারবার তাঁদের ডেইলি প্যাসেঞ্জার জাতীয় নেতারা এসে যে পেপ-টক দেওয়ার...

কর্মীদের চোখের চিকিৎসায় উদ্যোগী মার্লিন গোষ্ঠী, দুই কেন্দ্রে আয়োজিত হল পরীক্ষা শিবির 

কর্মীদের শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল দেশের অন্যতম আবাসন নির্মাণকারী সংস্থা মার্লিন গোষ্ঠী।...