Friday, April 24, 2026

ভবানীপুরে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ RO, নিয়ম ভেঙে দায়িত্বে আধিকারিকরা: CEO-কে প্রশ্ন তৃণমূলের

Date:

Share post:

নির্বাচনের আগে নির্বাচনী আচরণবিধির দোহাই দিয়ে যেভাবে রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশ পদে বদল করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) তা নিয়ে চর্চা গোটা দেশে। আদতে যে বিজেপির নির্দেশে রাজ্যে সুবিধামতো আধিকারিক সুবিধামতো কেন্দ্রে বসাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, তা স্পষ্ট করে দিয়ে ফের একবার রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অভিযোগ জানালেন তৃণমূলের প্রতিনিধিদল (TMC delegation)। একদিকে ভবানীপুরে (Bhabanipur) শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ রিটার্নিং অফিসার (RO) নিয়োগ, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের নিজের নিয়ম ভেঙেই কীভাবে আধিকারিকদের বদলি (officer transfer) করা হয়েছে, তারই তথ্য তুলে ধরা হল।

ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে জেতাতে কতটা মরিয়া নির্বাচন কমিশন, তা সেখানে আরও (RO) পদে সুরজিৎ রায়কে বসানোতেই প্রমাণ করেছিল কমিশন। তৃণমূলের তরফে এই অধিকারিক শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ বলে আগেই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেই সময়ে নির্বাচন কমিশনের সেক্রেটারি সুরজিৎ রায়কে সরিয়ে সেখান নতুন আধিকারিক নিয়োগের জন্য তিনটি নাম চেয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে। কিন্তু সেই বদল এখনও হয়নি, সিইও দফতরে (CEO Office) সেই দাবি পেশের কথা তুলে ধরেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)।

শুক্রবার সিইও দফতরে সেই দাবি তোলা হলে পাল্টা সিইও মনোজ আগরওয়াল আধিকারিকের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর যোগাযোগের প্রমাণ দাবি করেন বলেই বিস্ময় প্রকাশ করেন শশী পাঁজা। যেখানে দিল্লির আধিকারিকরা সুরজিৎ রায়ের বদলির পথে এগিয়ে ছিলেন, সেখানে রাজ্যের সিইও (CEO, West Bengal) সেই পদক্ষেপকেও কার্যত প্রশ্নের মুখে ফেললেন তাঁর প্রশ্নে। সেই সঙ্গে পদমার্যাদার ভিত্তিতে কীভাবে সুরজিৎ রায় ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার হন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তৃণমূল প্রতিনিধিদল।

তবে এই একমাত্র আধিকারিক নয়, রাজ্যে যে ৪৮৩ আধিকারিক পদে রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন, সেখানে কীভাবে নিয়ম ভাঙা হয়েছে তাও তুলে ধরেন মন্ত্রী শশী পাঁজা, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas), তৃণমূল নেতৃত্ব বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়। তাঁরা তিনটি নাম উল্লেখ করেন – অরিজিৎ গোস্বামী, বিডিও এগরা-২; শুভাশিস মজুমদার, বিডিও রামনগর-১; শুভদীপ ধর, বিডিও রামনগর-২। এই তিন আধিকারিক ২০২৪ সালের নির্বাচনেও এই একই এলাকায় নির্বাচনের কাজ সামলেছিলেন। শশী পাঁজার প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনের নিয়মেই যেখানে একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকা বা একই এলাকায় নির্বাচনের কাজ সামলানো আধিকারিকরা আবার সেখানেই নির্বাচনের দায়িত্ব সামলাতে পারেন না, সেখানে কীভাবে আবার সেই এলাকায় দায়িত্ব পান এই তিন আধিকারিক।

আরও পড়ুন : ভোটার কারচুপিতেই ক্ষমতায় চন্দ্রবাবু! মধ্যরাতে ১৭ লক্ষ ভোট, প্রশ্ন প্রভাকর-প্রশান্ত-কুরেশির

এর পাশাপাশি যেভাবে ফর্ম-৬-এর (Form-6) মাধ্যমে বাংলার ভোটার তালিকায় বাইরের রাজ্যের মানুষের নাম ঢুকিয়ে বাংলার জনবিন্যাস বদলে ফেলার চক্রান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তুলে ধরা হয়, কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার পরেও কীভাবে ভিন রাজ্যের ভোটারদের নাম ফর্ম-৮ (Form-8) দিয়ে বাংলার নতুন ভোটারদের তালিকায় তোলা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন।

Related articles

প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি রাজ্যে, রাত পর্যন্ত মোট গ্রেফতার ৪১ 

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ও গোলমাল পাকানোর অভিযোগে মোট ৪১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।...

কুণালের সমর্থনে মেগা রোড-শো দেবের, জনপ্লাবনে ভাসল বেলেঘাটা

বেলেঘাটায় ভোটের প্রচারে অন্য প্রার্থীদের আগেই কয়েক যোজন পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন কুণাল কুমার ঘোষ। প্রচারের শেষ লগ্নে এসে...

যত বেশি ভোট, তত বড় প্রত্যাবর্তন! প্রথম দফার শেষে আত্মবিশ্বাসের সুর তৃণমূল শিবিরে

যত বেশি হারে ভোট, তত জোরালো প্রত্যাবর্তন। বাংলার মানুষ বিজেপির কোমর ভেঙে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি জননেত্রী মমতা...

দুবরাজপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘আচরণে প্রশ্নের মুখে কমিশন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বীরভূমের দুবরাজপুর। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের নামে সাধারণ মানুষের ওপর...