২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের দপ্তরে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক পীযূষ পান্ডে এবং কলকাতার নগরপাল সুপ্রতিম সরকার-সহ পদস্থ আধিকারিকরা। তবে সব জল্পনা ছাপিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত বাহিনী ও সমন্বয় থাকলে আগামী নির্বাচন এক দফাতেই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

কমিশন সূত্রে খবর, ভোট ঘোষণা হওয়ার আগেই আগামী মার্চ মাসে দুই দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে চলে আসছে। এর মধ্যে ১ মার্চের মধ্যে ২৪০ কোম্পানি এবং ১০ মার্চের মধ্যে বাকি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ এবং আইটিবিপি-র মতো আধাসামরিক বাহিনীগুলি মূলত ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং এরিয়া ডোমিনেশনের কাজ শুরু করবে। এছাড়া ইভিএম ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তাতেও এই বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে।

রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অবশ্য বেশ উদ্বেগজনক। প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ৫০ শতাংশেরও বেশি বুথকে ‘স্পর্শকাতর’ বা ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ছয় মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খতিয়ান খতিয়ে দেখে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক কমিশন কর্তার মতে, মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে বুথগুলির শ্রেণিবিন্যাস নতুন করে পর্যালোচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এক দফায় ভোট করানো কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও কমিশনের দাবি, ওয়েবকাস্টিং ও মাইক্রো অবজার্ভারের সংখ্যা বাড়িয়ে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক বিন্যাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অর্ধেকের বেশি বুথ যেখানে উত্তেজনাপ্রবণ, সেখানে এক দফায় ভোট করিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের আস্থা ফেরানোই এখন কমিশনের কাছে অ্যাসিড টেস্ট। শেষ পর্যন্ত এক দফাতেই ভোট হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন- আগুন রুখতে কড়া বনদফতর! ডুয়ার্সের ৯ কিমি রাস্তা এবার ‘নো স্মোকিং জোন’

_

_
_

_
_

_


