টলিউডের অন্দরে কান পাতলে ইদানীং একটিই নাম বারবার ঘুরেফিরে আসছে— ‘কর্পূর’। নব্বইয়ের দশকের শেষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক মনীষা মুখোপাধ্যায়ের সেই রহস্যময় অন্তর্ধান আজও অমীমাংসিত। সেই বিতর্কিত এবং সংবেদনশীল অধ্যায়কেই এবার সেলুলয়েডে বন্দি করেছেন পরিচালক অরিন্দম শীল। সোমবার মুক্তি পেল ছবির প্রথম ঝলক, আর তা ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতি ও টলিপাড়ায় জোর চর্চা। বিশেষ করে বাম জমানার দাপুটে নেতা অনিল বিশ্বাসের চরিত্রে তৃণমূল নেতা তথা সাংবাদিক কুণাল ঘোষের উপস্থিতি এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ছবির ট্রেলার বা প্রথম ঝলকেই স্পষ্ট, এটি কেবল একটি নিখাদ রহস্যগল্প নয়, বরং টানটান এক পলিটিক্যাল থ্রিলার। মনীষা মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধানের পিছনে ঠিক কতটা রাজনীতি ছিল? কেন আজও সেই প্রশ্নের উত্তর অধরা? এই সমস্ত অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াতে চলেছে অরিন্দম শীলের এই ছবি। ছবিতে মনীষার ভূমিকায় দেখা যাবে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। গুরুত্বপূর্ণ এক তদন্তকারী অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রাত্য বসু। এছাড়াও রয়েছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায় এবং অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পরিচিত মুখ। খোদ পরিচালককেও দেখা যাবে একটি বিশেষ চরিত্রে।

তবে সব ছাপিয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রে কুণাল ঘোষ। সাংবাদিকতা ও রাজনীতির আঙিনা পেরিয়ে এবার অভিনয়ের জগতে তাঁর অভিষেক নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। অনিল বিশ্বাসের মতো এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চরিত্রে তিনি কতটা মানানসই হলেন, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে বিচার-বিশ্লেষণ। ছবির প্রথম ঝলকে তাঁর ‘লুক’ ইতিমধ্য়েই সমাজমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।

নব্বইয়ের দশকের সেই উত্তাল সময়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অলিন্দে চলা ক্ষমতার লড়াই আর এক শিক্ষিকার হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া— সব মিলিয়ে ‘কর্পূর’ যে রাজ্য রাজনীতির অনেক পুরনো ক্ষতে প্রলেপ দেবে না কি নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলবে সময়। আগামী ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি। এখন দেখার, রুপোলি পর্দায় মনীষা-রহস্যের জট শেষ পর্যন্ত কতটা খোলে।

আরও পড়ুন- রাজ্যে ভোটের বাদ্যি! মার্চেই আসছে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী, এক দফাতেই কি নির্বাচন?

_

_

_

_

_
_


