একটা দীর্ঘ সময়ের সহযোদ্ধা। পরে বিরোধী। যা চরমে পৌঁছে দুজনের রাজনৈতিক জীবনে বহু পট পরিবর্তন। স্বাভাবিকভাবে প্রাক্তন মন্ত্রী মুকুল রায়ের (Mukul Roy demise) প্রয়াণে স্মৃতিমেদুর তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর প্রয়াণে কোনও তিক্ততা নয়, শুধুই ভালো স্মৃতিগুলি থেকে যায়, স্মৃতিচারণায় (remembrance) জানালেন কুণাল।

যেভাবে মুকুল রায় তৃণমূলের একটি স্তম্ভ হয়ে একটা সময়ে দাঁড়িয়েছিলেন সেই সময়ের কথা উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কুণাল ঘোষ লেখেন, মুকুল রায় প্রয়াত, চিরশান্তিতে থাকুক। দীর্ঘকাল চিনি। সাংবাদিক হিসেবে বা পরে রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে। একটা সময়ে মমতাদির (Mamata Banerjee) পরম অনুগত। দলের কঠিন সময়েও তৃণমূলভবন আগলে পড়ে থাকত। কর্মীদের সময় দিত। দিদির নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ ছিল। বাংলা চিনত। পরে সময়ের সঙ্গে বদল।

এহেন মুকুল রায়ের সঙ্গেই রাজনীতির ময়দানে যে সংঘর্ষ হয়েছিল, তাঁর প্রয়াণে সেই স্মৃতিই টেনে আনেন কুণাল। তিনি লেখেন, আমার রাজনৈতিক উচ্চাশা ছিল না। তবু, রজ্জুতে সর্পভ্রম করে আমাকে বধ করার দরকার মনে করেছিল। আমার বিশ্বাসের মর্যাদা না দিয়ে আমাকে খাদের ধারে নিয়ে গিয়ে ঠেলে ফেলে দেওয়ার মূল কারিগর ছিল মুকুলদা। আমাকে, আমার ঘনিষ্ঠদের যা বলেছিল, ধ্রুবসত্য ধরেছিলাম। কঠিনতম দিনে ক্রমশ বুঝেছি রাজনীতির খেলা। পরে মুকুলদা তখন বিজেপিতে (BJP), আমাকে নানা কথা বলে আবার কাছে টেনে বিজেপিতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

আর সেখানেই দলের প্রতি যে আনুগত্য মুকুল দেখাতে পারেননি, তা দেখিয়েছিলেন কুণাল। তার উল্লেখ করে তিনি লেখেন, আমার বাড়িতে এসেছে একাধিকবার, আমি না বলায় আমার এলাকার ভাই, বন্ধুদের বুঝিয়েছে। বলেছে, ‘অমুক অমুক ‘ কারণে এই পার্টি করা যাবে না। কুণাল চলে আসুক। আন্তরিকভাবে আমাকে ওর সঙ্গে নতুন দলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বুঝিয়েছে। আমি বলেছি, সব বুঝলাম, কিন্তু দল ছাড়ব না, দলের ভেতরেই নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করে যাব।

মুকুল রায়ের প্রয়াণে তাঁর পরিবারের পাশে থাকার বার্তা কুণাল ঘোষের। শুভ্রাংশু রায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আরও পরে মুকুলদা অসুস্থ। মনেপ্রাণে চেয়েছি, সেরে উঠুক। ওর ছেলে শুভ্রাংশুর সঙ্গে আমার টুকটাক যোগাযোগ থাকে। মুকুলদাকে দেখতেও গেছি। শুভ্রাংশু ও পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা।


কথায় আছে স্মৃতি সততই সুখের। সেই সুখস্মৃতিই এদিন কুণাল ঘোষের মনে। তিনি লেখেন, মুকুলদা একজন দক্ষ রাজনৈতিক কর্মী ছিল। ওর সঙ্গে কিছু মুহূর্ত মনে থাকবে। ওর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের আগের রাতে দিল্লির বাড়ির সামনের গাছের তলার আলোচনা এবং দিদির ঘরের দরজা নক করে আরও অনুরোধ ; কিংবা কালিম্পংএ শীতের রাতে আমি আর মুকুলদা (Mukul Roy) রুম হিটার কোলে নিয়ে জেগে গল্প, এরকম বেশ কিছু মুহূর্ত আছে। ওর প্রতি আমার রাগ, অভিমান আছে। কিন্তু ওর বৈশিষ্ট্যগুলো অস্বীকার করব কেন? ও আমার ক্ষতি করার কারিগর। অনেক পরেও সিবিআইকে কত বড় মিথ্যা বয়ান দিয়ে আমাকে আরও ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে, আমি দেখেছি, আমি জানি, ঈশ্বর আছেন। কিন্তু ও তৃণমূলের দুঃসময়ের অন্যতম সৈনিক, পাল্টেছে অনেক পরে।

আরও পড়ুন : রাজনীতি, অসুস্থতাকে পিছনে ফেলে না ফেরার দেশে মুকুল রায়

আর সেখানেই কুণাল ঘোষের দাবি, তৃণমূল ত্যাগই মুকুল রায়ের জীবনের ভুল। স্পষ্ট উল্লেখ করেন, আমার মতে কারণ যাই হোক, ওর তৃণমূল ছাড়াটা মস্ত ভুল। তৃণমূলে ও একটা বড় নাম। দলবদলের জটিল আবর্তে সম্মান ও গুরুত্বটা হারিয়ে ফেলেছিল। আজ ওর বিদায়ের মুহূর্তে সুন্দর কিছু স্মৃতি মনে থেকে যাক। বাকি পর্যালোচনা চলতে থাকবে।

মুকুল রায় প্রয়াত, চিরশান্তিতে থাকুক। দীর্ঘকাল চিনি। সাংবাদিক হিসেবে বা পরে রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে। একটা সময়ে মমতাদির পরম অনুগত। দলের কঠিন সময়েও তৃণমূলভবন আগলে পড়ে থাকত। কর্মীদের সময় দিত। দিদির নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ ছিল। বাংলা চিনত। পরে সময়ের সঙ্গে বদল। আমার রাজনৈতিক উচ্চাশা… pic.twitter.com/0NBCzfLnXI
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) February 23, 2026


