বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হতে শুরু করেছে। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য চন্দন মণ্ডলের পর এবার ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন তাঁর স্ত্রী তথা ময়নার গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান খুকুরানি মণ্ডল। তাঁর সঙ্গেই গেরুয়া শিবির ছেড়ে শাসক দলে নাম লেখালেন পঞ্চায়েত সদস্য কাকলি চৌধুরী-সহ প্রায় ৫০০ সমর্থক পরিবার। রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাকচা অঞ্চলে এই বড় মাপের দলবদল স্থানীয় বিজেপির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সোমবার গোজিনায় তৃণমূলের এক কর্মীসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে খুকুরানি মণ্ডলের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন ময়না পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখ শাজাহান আলি, ব্লক সভাপতি মৃণালকান্তি সামন্ত এবং জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অভয়া দাস। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তৃণমূল ভবনে গিয়ে নাম লিখিয়েছিলেন চন্দন মণ্ডল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খুকুরানি ও তাঁর অনুগামীদের এই দলবদল ময়নায় বিজেপির সংগঠনে বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

তৃণমূলে যোগ দিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গোজিনার প্রধান। খুকুরানি মণ্ডলের অভিযোগ, বিজেপিতে থেকে এলাকার উন্নয়নের কাজ প্রত্যাশিত ভাবে এগোচ্ছিল না। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ প্রকল্পের মাধ্যমে যে উন্নয়ন হচ্ছে, তার শরিক হতেই তিনি দলবদল করেছেন। উন্নয়নের স্বার্থেই বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, এই যোগদানকে ঘিরে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল শিবির। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখ শাজাহান আলি জানান, চন্দন মণ্ডলের পর তাঁর স্ত্রী ও শয়ে শয়ে বিজেপি কর্মী যোগ দেওয়ায় ময়নায় দলের সংগঠন আরও কয়েক গুণ মজবুত হলো। তাঁর দাবি, এটি কেবল শুরু; আগামী দিনে ময়নার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির প্রভাব আরও কমবে। পাল্টা বিজেপির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় নেতৃত্ব। যদিও ভোটের মুখে এমন ভাঙন যে বাকচা ও ময়নার নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

আরও পড়ুন- মৃত সরকারি কর্মীর বকেয়া টাকা পাবেন বিবাহিত ও বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যারাও, নিয়মে বড় বদল নবান্নের

_

_
_

_
_

_


