বাংলার সংস্কৃতিতে যে সহনশীলতা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ঐতিহ্য ছিল, তা বাইরের শত্রুরা নষ্ট করার চেষ্টা করলেও তাতে যে কোনও আঁচ পড়েনি ফের একবার দেখিয়ে দিল কলকাতা শহর। কলকাতা পুরসভা আয়োজিত দাওয়াত-এ-ইফতার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উপস্থিতিতে একাধিক ধর্মের মানুষ উৎসবের পরিবেশে যোগ দিলেন। ইসলাম ধর্মাবলম্বী সংগঠনগুলির নেতৃত্বরা দাবি করলেন, যেভাবে তাঁদের সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও পাশে থাকার ইতিহাস তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা এখন দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলির জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের উদ্যোগে প্রতিবছর ইফতার পার্টির (Iftar party) আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার সেই ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, জুন মালিয়া ও রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী থেকে বিধায়করা। সেখানেই যেভাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে ইসলাম সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য হাসপাতাল থেকে ধর্মীয় উপাসনার স্থান নির্মাণে সহযোগিতা করা হয়েছে, তা তুলে ধরেন ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাকিবিল্লাহ মোল্লা।

পাশাপাশি তুলে ধরা হয়, কীভাবে শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায় নয়, রাজ্যের সব সম্প্রদায়ের জন্য তাঁদের সকলের দাবি মেনে উন্নয়নের কাজ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা তুলে ধরেন একাধিক নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) দাওয়াতেও (iftar party) সেভাবেই উপস্থিত হয়েছেন বৌদ্ধ, জৈন, শিখ সম্প্রদায়ের মানুষও। রাজ্যের সম্প্রীতির (communal harmony) এটাই বাস্তব ছবি। যাঁরা এই সম্প্রীতিতে ভাঙন ধরাতে চায়, সেই শক্তিকে পরাজিত করতে হবে।

আরও পড়ুন : তিনি সেই নায়ক! রিয়েলের প্রসেনজিতের সাহসিকতার প্রশংসা মুখ্যমন্ত্রীর, পোস্ট কলকাতা পুলিশের

একাধিক ইসলাম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের মধ্যে এদিন উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় ষোলআনা মসজিদের ইমাম (Imam) আব্দুল হামির। তিনি উল্লেখ করেন, যখন হজ (Haj) করতে বাংলা থেকে তীর্থযাত্রীরা যান, তখন ওড়িশা বা বিহার থেকে আসা হজযাত্রীরা তাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। বাংলার হজযাত্রীদের যে সম্মান, সুবিধা দেওয়া হয় তা অন্য রাজ্যের হজযাত্রীরা পান না। বিজেপি শাসিত রাজ্যের হজযাত্রীরা কোনওদিনও এই ধরনের সুবিধা পান না, সেই তথ্য এদিন ইফতারে তুলে ধরেন তিনি।

–

–

–

–

–


