সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় স্কুলবাসে উঠে ঘুমিয়ে পড়েছিল পাঁচ বছরের এক শিশু। সেই ঘুমই প্রায় সাত ঘণ্টার আতঙ্কে বদলে গেল। বাসের ভেতরে একা, সবাই স্কুলে পৌঁছে গেলেও কেউ তাঁকে খুঁজলো না। নয়ডার (Noida) একটি বেসরকারি স্কুলে (Child Safety) এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার নিয়মমাফিক স্কুল বাসে ওঠে শিশু। স্কুলে পৌঁছনোর পর অন্য ছাত্রছাত্রীরা নেমে গেলেও বাসকর্মীরা গাড়ির ভেতর ভালো করে আরেকবার পরীক্ষা করেননি। ফলে ঘুমন্ত শিশুটি সিটেই থেকে যায়। এরপর বাসটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের একটি ডিপো বা বাসইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে পার্ক করা হয়—শিশুটি তখনও বাসের ভেতরেই।

দীর্ঘ সময় ধরে সে কাঁদছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু কেউ তা টের পায়নি। ঘটনা সামনে আসে দুপুরে, যখন শিশুটির মা তাঁকে স্কুলে নিতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁকে ‘অ্যাবসেন্ট’ দেখানো হয়েছে। অথচ পরিবহণ সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, সে সকালে বাসে উঠেছিল। তড়িঘড়ি করে খুঁজতে গিয়ে অবশেষে ডিপোয় দাঁড়িয়ে থাকা বাসের ভেতর থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সে শারীরিকভাবে সুস্থ আছে। আরও পড়ুন: ভার্চুয়াল মাধ্যমে ঝাঁ চকচকে ৪ লেনের কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী

এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকেরা। পরিবারের দাবি, প্রতিটি ট্রিপের পর নিয়ম অনুযায়ী বাস খালি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। সেই ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করা হলে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হত না। তারা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পরিবহণ বিভাগের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

স্কুলের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে শেষ মুহূর্তে বাস বদল করা হয়েছিল। তাদের দাবি, শিশুটি পুরনো বাসে থেকে গিয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে খুঁজে বের করা হয় এবং সে নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছে।

একই সঙ্গে পরিবহণ সংক্রান্ত নিয়মকানুন পর্যালোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বাড়তি নজরদারি ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে, এক্ষেত্রে স্কুল শিশুদের নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

–

–

–

–

–


