কলকাতায় এবারের দোল উৎসব কাটল মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই। পুলিশের কড়া নজরদারির ফলে শহরে বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর মেলেনি। তবে উৎসবের মেজাজে নিয়ম ভাঙার অপরাধে শহরজুড়ে মোট ৩৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার।

কলকাতা পুলিশের ১০টি ডিভিশন মিলিয়ে এই ধরপাকড় চালানো হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে মূলত মত্ত অবস্থায় অভব্য আচরণ এবং অসামাজিক কাজকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তল্লাশি অভিযানে পুলিশ প্রায় ২৫ লিটার মদ বাজেয়াপ্ত করেছে।

উৎসবের দিন শহরকে নিরাপদ রাখতে লালবাজারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল একগুচ্ছ বিশেষ ব্যবস্থা:

• পুলিশ পিকেট: শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৩৯৮টি পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছিল।

• স্পেশাল নজরদারি: শ্যামবাজার, খান্না মোড় এবং পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টের মতো ৮৬টি ‘সংবেদনশীল’ এলাকায় বিশেষ পিকেট ছিল, যেখানে ৬ জন করে পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন।

• মোবাইল টহল: রাস্তায় নজরদারির জন্য ছিল ৬২টি পিসিআর ভ্যান এবং কুইক রেসপন্স টিম। এ ছাড়া বাইকেও টহল দিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

রাস্তার পাশাপাশি জলপথেও কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি প্রশাসন। শহরের আটটি গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গার ঘাটে (বিচলিঘাট, দাইঘাট, আউটরাম ঘাট ইত্যাদি) ছিল আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা। জোয়ার-ভাঁটার সময় দুর্ঘটনা এড়াতে অনবরত মাইকিং করা হয়। রিভার ট্রাফিক পুলিশ চারটি স্পিড বোট নিয়ে পশ্চিম বন্দর থানা থেকে হুগলির কোন্নগর পর্যন্ত জলপথে টহল দিয়েছে, যাতে কেউ তলিয়ে না যায়।

গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, দোলের দিন মত্ত চালকদের দাপটে বড় দুর্ঘটনা ঘটে। তাই এ বছর আগাম সতর্কতামূলক নির্দেশিকা এবং পুলিশের ‘সিক্সার’ পারফরম্যান্সে বড় কোনো অঘটন ছাড়াই উৎসব পালন করল তিলোত্তমা।

আরও পড়ুন – শোলে-র পঞ্চাশে বিশেষ ক্যালেন্ডার প্রকাশ, জয়-বীরু হলেন সিধু-পটা

_

_


