যেভাবে অপরিকল্পিত পথে হেঁটে কখনও মার্কিন শুল্কের চাপ, কখনও দেশের মানুষের উপর জ্বালানি বাড়ানোর চাপ দিয়েই চলেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার, তার যথার্থ উদাহরণ, রাতারাতি জ্বালানি গ্যাসের দাম বাড়া। যে কেন্দ্রের সরকার শুক্রবারও মন্ত্রকের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, দেশে যথেষ্ট তেল ও জ্বালানি গ্যাস রয়েছে বলে, সেই সরকারের নিয়ন্ত্রণের অভাবও স্পষ্ট হয়েছে শুক্রবার রাতে রান্নার গ্যাসের (cooking gas) দাম বাড়ানোয়। যার সোজা প্রভাব পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। শনিবার সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ (dharna mancha) থেকে সরব হওয়ার পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) ভ্রান্ত বিদেশ নীতি (foreign policy) নিয়ে তোপ দাগলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সঙ্গে বাংলার দিকে আঙুল তোলার আগে মোদির বিরুদ্ধে ওঠা এপস্টেইন ফাইল (Epstein Files) সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে সতর্ক করেন তিনি।

সাধারণ মানুষের হেঁশেলে যেভাবে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার তা স্পষ্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, গতকাল ৬০ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। তার তিনদিন আগে ৪৯ টাকা বাড়িয়েছে। বড় সিলিন্ডারের (commercial cylinder) দাম ২১০০ টাকা হয়ে গেছে। আর ছোট সিলিন্ডার (10kg cylinder) ১০০০ টাকা হয়ে গেছে। আর ২১ দিন আগে থেকে আপনাকে বুক (gas booking) করতে হবে। তার মানে আপনার বাড়িতে যদি আজ গ্যাস না থাকে তাহলে আপনি কী খাবেন?

আদতে এসবই যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভ্রান্ত বিদেশ নীতির কারণে শনিবার মেট্রো চ্যানেলের ধর্না মঞ্চ থেকে তা নিয়েই সরব মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়। এগুলো কী আগে বোঝা উচিত ছিল না কমরেডদের? ওদের আমি এখন কমরেড বেনামী বলি। কমরেডদের আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু বেনামী কমরেডদের নয়। তাঁদের জিজ্ঞাসা করি আগে কী করছিলেন? ঘুমাচ্ছিলেন? না উপহার নিয়ে বেড়াচ্ছিলেন? গলায় মালা পরে বেড়াচ্ছিলেন দেশকে বেঁচে দিয়ে? আজ মনে পড়ল, ব্যর্থতা তুলে প্রশ্ন মমতার।

জ্বালানি ক্ষেত্রে যেভাবে সমস্যায় সাধারণ মানুষ তা যে শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদির স্বার্থসিদ্ধির কারণে, সেই ইঙ্গিত দিতেও বাকি রাখেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দেন, যার ঘরে গ্য়াস (domestic gas) নেই তাকে ২১ দিন অপেক্ষা করতে হবে। রান্নাটা তাহলে আপনি করে দিয়ে যাবেন। হোম ডেলিভারি (home delivery) করে দিয়ে যাবেন। কেরোসিনও নেই যে স্টোভ জ্বালাবে। কেরোসিনের কোটাও তো কমিয়ে দিয়েছে। বাস্তব জীবনে যা দৈনন্দিন প্রয়োজন, সেটা সবার জন্যই প্রয়োজন। জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন ইচ্ছামতো। কেন আগে থেকে পরিকল্পনা করেননি, উপহার নেওয়ার আগে? কানমলা খাওয়ার আগে?

আরও পড়ুন : বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম, শনিবার থেকেই মধ্যবিত্তের হেঁশেলে কোপ

সেই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রেরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আবার দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত চালাচ্ছে। যে কেন্দ্রের সরকার নিজের দেশের মানুষকে সাধারণ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তাদের বঙ্গ ভঙ্গের চক্রান্তে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিতেও ছাড়েননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর নামে ওঠা নির্লজ্জ এপস্টেইন অভিযোগ মনে করিয়ে দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট কথা, বঙ্গ ভঙ্গ করবেন? আগে এপস্টেইন সামলান।

–

–

–

–

