দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের অভিযোগ, অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজ্যের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা করছেন তিনি। এই মর্মে সংসদের চলতি অধিবেশনেই অপসারণের নোটিশ পেশ করার তোড়জোড় শুরু করেছে জোড়াফুল শিবির। ঘাসফুল শিবিরের এই অবস্থানকে ইতিমধ্যে বিরোধী জোটের অন্যান্য প্রভাবশালী দলগুলিও সমর্থন জানিয়েছে বলে খবর।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের খসড়া তৈরির কাজ এবং প্রয়োজনীয় সই সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হবে। লোকসভা ও রাজ্যসভা— উভয় কক্ষের সাংসদরাই এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে পারবেন। মূলত বাংলার ‘ভোটের অধিকার’ রক্ষার দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতা কেন্দ্রিক অবস্থান ধরনার রেশ এবার আছড়ে পড়ল সংসদ ভবনেও। তৃণমূল সুপ্রিমো আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। সেই সুরেই মঙ্গলবার সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় সৌগত রায়, নাদিমুল হক ও মমতাবালা ঠাকুরদের।

এদিন লোকসভা ও রাজ্যসভায় বাংলার এসআইআর (SIR) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবিতে সরব হন তৃণমূল সাংসদরা। তবে সেই দাবি খারিজ হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। সরকারের আচরণের প্রতিবাদে রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে মমতাবালা ঠাকুর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার যে লড়াই শুরু করেছেন, আমরা সংসদে তারই প্রতিফলন ঘটিয়েছি। সরকার আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ায় আমরা ধিক্কার জানিয়ে সভা ছেড়েছি। অন্য দিকে, ২৬৭ নম্বর ধারায় আলোচনার দাবি অগ্রাহ্য হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন নাদিমুল হকও।

রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়গের ডাকা বৈঠকটি। সেখানে তৃণমূলের লোকসভার ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। বাংলায় মমতার ধরনা মঞ্চের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চান, পরিস্থিতি কতটা গুরুতর। সূত্রের খবর, শতাব্দীর সেই প্রস্তাবে বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরাও সহমত পোষণ করেছেন। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধীরা যে একজোট হয়ে ময়দানে নামছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে এদিন।

আরও পড়ুন- কমিশনের বার্তার পরেই নবান্নে তৎপরতা, জেলাশাসক-পুলিশকর্তাদের নিয়ে বৈঠক সারলেন মুখ্যসচিব

_

_

_

_

_
_

